২০২২ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও বস্ত্র খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দাম বৃদ্ধি পায়। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে চাপ সৃষ্টি করে।
১৯৭৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১১ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সীমিত সম্পদের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলে কাজে লাগালে দেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করবে। যদিও অধিক জনসংখ্যা প্রাথমিকভাবে নির্ভরশীল জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে, তবে এই কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থান ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। দক্ষ মানবসম্পদ কেবল দেশের জন্যই নয়, বরং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে। যখন এই বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ দক্ষ হয়ে উঠবে, তখন তারা দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, নতুন শিল্প ও সেবার ক্ষেত্র তৈরি করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে। এটি দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করবে, দারিদ্র্য কমাবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে, যা দেশকে দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.