করিম সাহেব জলরং ব্যবহার করেন।
জলরং ছবি আঁকার জন্য একটু মোটা ও খসখসে জমিনের কাগজ সবচেয়ে উপযোগী। কারণ, জলরং স্বচ্ছ ও পাতলা হওয়ায় মোটা ও খসখসে কাগজ পানি শোষণ করে রংকে ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে এবং কাগজের মসৃণতা নষ্ট হয় না, ফলে ছবি সুন্দর হয়।
করিম সাহেবকে প্রথমে হার্ডবোর্ডে টান-টান করে কাগজ আটকাতে হবে। এরপর পেন্সিলে হালকা দাগ দিয়ে মেঘের ড্রইং করে নিতে হবে। রং লাগাবার আগে পরিষ্কার ভেজা ন্যাকড়া বা চওড়া তুলি দিয়ে কাগজটিকে ভিজিয়ে নিতে হবে এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে যাতে কাগজের চুপচুপে পানি কিছুটা শুকিয়ে আসে। এরপর পিরিচে নীল ও বাদামি রং পানি দিয়ে গুলে চওড়া তুলি দিয়ে আধ-ভেজা কাগজে আলতো করে লাগাতে হবে। রং লাগানো শুরু করতে হবে কাগজের উপর দিক থেকে এবং তুলি চালাতে হবে বাঁ দিক থেকে ডানে। এভাবে নীল রঙের ওয়াশ দেওয়ার সময় ড্রইং অনুযায়ী সাদা মেঘের অংশগুলো ছেড়ে দিতে হবে যাতে কাগজের সাদা রয়ে যায়।
যদি করিম সাহেব জলরঙের পরিবর্তে অ্যাক্রেলিক রং ব্যবহার করতেন, তাহলে তার প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবিতে গুণগত পার্থক্য দেখা যেত। জলরং স্বচ্ছ হওয়ায় আলোর স্তর এবং রঙের মিশ্রণ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়, যা প্রাকৃতিক দৃশ্যের সূক্ষ্মতা ও গভীরতা প্রকাশে সহায়ক। অন্যদিকে, অ্যাক্রেলিক রং মূলত অস্বচ্ছ। যদিও এটি পাতলা করে গুলে জলরঙের মতো ব্যবহার করা যায়, তবে জলরঙের সহজাত স্বচ্ছতা এবং স্তরবিন্যাসের প্রভাব অ্যাক্রেলিকের মাধ্যমে হুবহু তৈরি করা কঠিন হতে পারে। অ্যাক্রেলিক দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় স্তর তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুততার প্রয়োজন হয়, যা জলরঙের মতো ধীরে ধীরে রঙের প্রভাব তৈরির সুযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে, জলরঙের স্নিগ্ধ ও প্রাকৃতিক স্বচ্ছতা অ্যাক্রেলিকে পাওয়া নাও যেতে পারে।
Class 7 › চারু ও কারুকলা › Chapter 4: ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম › Topic: পোস্টার রং: বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
Aligned to the NCTB national curriculum.