২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি. মি. এ ১১১৯ জন।
জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। শিক্ষিত ও দক্ষ জনসংখ্যা দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এর বিপরীতে, অদক্ষ জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
২০০১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে হ্রাস প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ২০০১ সালে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.৫৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালে কমে ১.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হ্রাস নির্দেশ করে যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধি ইত্যাদি।
বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব (১১১৯ জন প্রতি বর্গ কি.মি.) এবং বার্ষিক বৃদ্ধির হার (১.২ শতাংশ) দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন, খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য চাহিদা পূরণের জন্য বনভূমি, কৃষি জমি, গ্যাস ও পানিসম্পদের উপর অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে। আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণে বন ধ্বংস হচ্ছে এবং কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। কলকারখানার উৎপাদন ও যানবাহনে প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই সম্পদগুলোকে নিঃশেষ করছে। এছাড়া, কলকারখানার বর্জ্য পানিসম্পদকে দূষিত করছে, যা সুস্বাদু পানির অভাব সৃষ্টি করছে এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করছে। এই চাপ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের জনসংখ্যার তুলনা
Aligned to the NCTB national curriculum.