ছবি আঁকাকে কতগুলো রেখার সমষ্টি বলা হয়েছে।
রেখা সরল, বাঁকা, বৃত্তাকার কিংবা যেকোনো ভাবেই হতে পারে।
একটি ঘরের ছবি আঁকার সময় সরল রেখাগুলো ঘরের দেয়াল, ছাদ এবং দরজার মতো কাঠামোগত অংশ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন, উল্লম্ব সরল রেখাগুলো দেয়ালের উচ্চতা এবং অনুভূমিক সরল রেখাগুলো দেয়ালের প্রস্থ বা ছাদের ভিত্তি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, বাঁকা রেখাগুলো ঘরের ছাদের প্রান্ত বা জানালাগুলোর নকশা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হতে পারে, যা ঘরের কাঠিন্যের মধ্যে কিছুটা কমনীয়তা যোগ করে। এই রেখাগুলোর সঠিক সমন্বয় একটি সুষম ও বাস্তবসম্মত ঘরের ছবি তৈরি করে।
অঙ্কনে বিভিন্ন ধরনের রেখার ব্যবহার বস্তুর গঠন, গতিশীলতা এবং অনুভূতির প্রকাশে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। **বস্তুর গঠন:** সরল রেখাগুলো বস্তুর কাঠিন্য, দৃঢ়তা এবং জ্যামিতিক গঠনকে তুলে ধরে। যেমন, একটি বিল্ডিং বা একটি টেবিল আঁকতে সরল রেখা ব্যবহার করা হয়। বাঁকা রেখাগুলো বস্তুর কোমলতা, জৈব আকৃতি এবং মসৃণতা নির্দেশ করে, যেমন—ফুলের পাপড়ি বা একটি মানুষের শরীরের বক্ররেখা। বৃত্তাকার রেখা পূর্ণতা এবং আবদ্ধতা বোঝায়। বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের এবং পুরুত্বের রেখা ব্যবহার করে বস্তুর বিভিন্ন অংশের গুরুত্ব ও দূরত্ব ফুটিয়ে তোলা যায়। **গতিশীলতা:** বাঁকা এবং তির্যক রেখাগুলো ছবিতে গতিশীলতা ও প্রবাহের অনুভূতি যোগ করে। যেমন, একটি উড়ন্ত পাখির ডানা বা ঢেউ খেলানো নদীর ছবি আঁকতে বাঁকা রেখার ব্যবহার গতিশীলতা প্রকাশ করে। রেখার দিক এবং চাপ পরিবর্তন করে গতি বা শক্তির তারতম্য বোঝানো যায়। **অনুভূতির প্রকাশ:** রেখার ব্যবহার কেবল বস্তুর চেহারা নয়, বরং শিল্পীর অনুভূতি এবং ছবির সামগ্রিক মেজাজও প্রকাশ করে। তীক্ষ্ণ এবং ভাঙা রেখাগুলো উত্তেজনা, রাগ বা অস্থিরতা বোঝাতে পারে, যখন মসৃণ এবং দীর্ঘ রেখাগুলো শান্তি, স্থিতিশীলতা বা কমনীয়তা প্রকাশ করে। একটি রেখার ঘনত্ব বা হালকা ভাব আলোর তীব্রতা বা বস্তুর টেক্সচার বোঝাতে পারে। এই বহুমুখী ব্যবহার রেখাকে একটি শক্তিশালী শৈল্পিক উপাদান করে তোলে, যা একটি চিত্রকে কেবল দৃশ্যমানই নয়, বরং আবেগপূর্ণ এবং অর্থবহ করে তোলে।
Class 7 › চারু ও কারুকলা › Chapter 5: ছবি আঁকার নানারকম আনন্দদায়ক অনুশীলন › Topic: রেখার সমন্বয়ে অনুশীলন
Aligned to the NCTB national curriculum.