চারু ও কারুকলা · Class 7
রিনা তার চারপাশে দেখা জিনিসপত্রের বাস্তবধর্মী ছবি আঁকতে ভালোবাসে। সে জানে যে আকার-আকৃতির প্রতি সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিনা লক্ষ করেছে যে পৃথিবীর বেশিরভাগ জিনিসই বৃত্ত, চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজের মতো জ্যামিতিক আকৃতির মাঝে আবদ্ধ। সে চেষ্টা করে তার আঁকা ছবিতে আকার যতই বড়ো বা ছোটো হোক না কেন, আকৃতি যেন ঠিক থাকে।
সিয়াম তার শিল্পকলার খাতায় ৫, ৬, ৭ ও ৮ সংখ্যা ব্যবহার করে কাঠবিড়ালী, বিভিন্ন জলজ ও সাধারণ পাখি এবং খরগোশের ছবি আঁকার অনুশীলন করছিল। সে লক্ষ্য করল যে প্রতিটি সংখ্যাই একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর আকৃতি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করছে এবং এতে তার অঙ্কন দক্ষতা আরও বাড়ছে।
রাহুল গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে সে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, দূরে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর, নদীতে পালতোলা নৌকা, আকাশে উড়ন্ত পাখি এবং সামনের দিকে কয়েকটি তালগাছ দেখল। এই দৃশ্যটি তার মনে গভীর রেখাপাত করল। বাসায় ফিরে সে এই দৃশ্যটি আঁকতে বসলে তার মনে পড়ল আকার, আকৃতি, দূরত্ব, অনুপাত, আলোছায়া ইত্যাদি সাধারণ নিয়মগুলোর কথা।
শ্রেণিতে নকশা তৈরির সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে তারা ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি দিয়ে নকশা অঙ্কনের কৌশল জেনেছিল। এখন তারা ফুল, লতাপাতার পাশাপাশি পাখি ও মাছের আকৃতি নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল চিন্তা দিয়ে আরও সুন্দর নকশা আঁকবে। তিনি পরামর্শ দিলেন যে যেকোনো নকশা অঙ্কনের পূর্বে, নকশায় যে সকল বিষয় ব্যবহার করব তার আকার ও আকৃতিগুলো আলাদা করে এঁকে পরে তা একটি নির্দিষ্ট মাপের মাঝে সাজালে সুন্দর নকশা তৈরি হবে।
শিক্ষিকা রুমি আপা তার শিক্ষার্থীদের বললেন যে নকশা বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে তৈরি করা হয়। যেমন—শাড়ির পাড়, কামিজ বা পাঞ্জাবির গলার নকশা, টেবিল ক্লথ বা কুশনের জন্য, ফুলদানি, নকশি পাতিল বা অন্য যে কোনো জিনিসকে শিল্পরূপ দেওয়ার জন্য নকশার প্রয়োজন হয়। তিনি তাদের একটি ব্যবহারিক কাজ দিলেন যেখানে মাছ ও পাখির আকৃতি ব্যবহার করে ৬" x ৬" মাপে একটা নকশা আঁকতে হবে।
শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ছবি আঁকার অনুশীলন করছিল। তাদের শিক্ষক বললেন যে প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার সবই আলোছায়ার আবর্তনে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টায়। তিনি পরামর্শ দিলেন যে কোনো কিছু আঁকার পূর্বে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যত বেশি বাড়বে, ছবিও তত বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
চিত্রশিল্পী রফিক সাহেব তার শিক্ষার্থীদের বললেন, যেকোনো বস্তু বা বিষয় অঙ্কনের সময় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, তার সুষমতা দেখার অনুপাত এবং তার যথার্থ স্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করতে হবে। এসব বিষয় ঠিক রেখে অঙ্কন করলে একটি সুন্দর প্রকাশ অবশ্যই ফুটে উঠবে।
সাদিয়া প্রকৃতি থেকে ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসে। সে জানে যে প্রকৃতির আছে বর্ণিল রূপ, যা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রতি ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায়। সকালের নরম আলো, দুপুরের প্রখর আলো এবং সূর্যাস্তের ভিন্ন অনুভব—এ সবকিছুই আলোছায়ার আবর্তনে ঘটে। ঋতুর বৈচিত্র্যতায়ও প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন ঘটে।
শিক্ষার্থীরা ১ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা ব্যবহার করে মজার ছবি আঁকতে শেখে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে তারা সাধারণ নিয়মে ফুল, পাতা, নকশা অঙ্কন শিখেছিল। এখন তারা সংখ্যা ব্যবহার করে এমন ছবি আঁকা শিখবে যা তাদের আনন্দ দেবে এবং তারা বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদেরও দেখিয়ে অবাক করে দিতে পারবে। এই অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
একজন শিল্পী প্রাকৃতিক আকৃতি ব্যবহার করে একটি বৃত্তাকার নকশা তৈরি করছিলেন। তিনি মাছ এবং বৃত্তাকার জ্যামিতিক লাইনের মেলবন্ধনে আলপনার মতো সুন্দর লোকজ মোটিফের নকশা ফুটিয়ে তুললেন। তার কাজ দেখে বোঝা গেল যে প্রাকৃতিক ও জ্যামিতিক আকৃতির সংমিশ্রণে কত বৈচিত্র্যময় নকশা তৈরি করা সম্ভব।
আকাশ তার শিল্পকলার ক্লাসে 2B এবং 4B পেন্সিল ব্যবহার করে একটি পেন্সিল স্কেচ তৈরি করছিল। শিক্ষক তাকে বলেছিলেন যে বিভিন্ন গ্রেডের পেন্সিল ব্যবহার করে ছবিতে বিভিন্ন ধরনের টোন এবং আলোছায়ার প্রভাব আনা যায়। আকাশ এই কৌশল ব্যবহার করে তার আঁকা ছবিতে গভীরতা এবং বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল।
শ্রেণিতে একটি ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অক্ষর ব্যবহার করে একটি নকশা অঙ্কন করতে বলা হলো। শিক্ষক বললেন যে অক্ষরগুলো কেবল লেখার জন্য নয়, সেগুলোকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে সুন্দর নকশাও তৈরি করা যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো অক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন তৈরি করতে শুরু করল।
শিল্পকলা প্রদর্শনীতে জ্যামিতিক আকৃতি (বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ) ব্যবহার করে তৈরি একটি আকর্ষণীয় নকশা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। নকশাটিতে বৃত্ত, চতুর্ভুজ, রম্বস ও ত্রিভুজের পুনরাবৃত্তিমূলক সুষম ব্যবহার করা হয়েছিল। দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে দেখছিল কীভাবে সাধারণ জ্যামিতিক আকৃতিগুলো দিয়ে এত সুন্দর একটি প্যাটার্ন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
শিল্পী রেখা বেগম তার শিক্ষার্থীদের বললেন যে ছবি আঁকা মানে কতগুলো রেখার সমষ্টি, সেটা সরল, বাঁকা, বৃত্তাকার কিংবা যেকোনো ভাবেই হতে পারে। তাই অঙ্কনের ক্ষেত্রে প্রতিটি রেখাই সমান গুরুত্ব বহন করে। তিনি বিভিন্ন ধরনের রেখার সমন্বয়ে কতগুলো অনুশীলন দেখালেন, যেমন—কাপ, ঘর, নৌকা ইত্যাদি।
রাজু একটি আর্ট গ্যালারিতে গেল যেখানে সে বিভিন্ন ধরনের নকশা দেখল। কিছু নকশা ছিল মাছ ও পাখির আকৃতি দিয়ে তৈরি, আবার কিছু নকশা ছিল জ্যামিতিক ও প্রাকৃতিক আকৃতির সমন্বয়ে। সে মুগ্ধ হয়ে দেখল কীভাবে শিল্পীরা কল্পনা করে বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি করেছে এবং সেগুলো শাড়ির পাড়, কামিজের গলার নকশা, টেবিল ক্লথ বা ফুলদানিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
রফিক তার ক্লাসে দেখল যে তার সহপাঠীরা বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের আকার-আকৃতি, গঠন পরিমাপ করছে। শিক্ষক তাদের বুঝিয়ে দিলেন যে বাস্তবধর্মী চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে এই পরিমাপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বললেন যে আকার যতই বড়ো কিংবা ছোটো হোক না কেন, আকৃতি ঠিক রাখতেই হবে।
শিল্প শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন যে ছবি আঁকা মানে শুধু পেন্সিল বা তুলি দিয়ে রেখা টানা নয়, এটি একটি আনন্দদায়ক অনুশীলন যা আমাদের চারপাশের জগতকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। তিনি তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ছবি আঁকার জন্য উৎসাহিত করলেন।
শ্রেণিতে শিক্ষক ৯ ও ০ সংখ্যা ব্যবহার করে ফুল, পাখির অংশ এবং ছোট মুরগির ছানা আঁকার কৌশল শেখালেন। শিক্ষার্থীরা দেখল কীভাবে একটি সাধারণ বৃত্তাকার অবয়ব থেকে একটি সম্পূর্ণ ছানার আকৃতি তৈরি করা যায়। এই অনুশীলনের মাধ্যমে তারা বুঝতে পারল যে যেকোনো আকৃতি থেকেই সৃজনশীল কিছু তৈরি করা সম্ভব।
মিনা তার শিল্পকলার ক্লাসে ৪ সংখ্যা ব্যবহার করে কচ্ছপের ছবি আঁকার কৌশল শিখল। শিক্ষক তাকে দেখালেন কীভাবে ৪ সংখ্যাটিকে উল্টে বা বিভিন্ন ভঙ্গিমায় রেখা টেনে একটি কচ্ছপের অবয়ব তৈরি করা যায়। মিনা এই পদ্ধতি দেখে মুগ্ধ হলো এবং বাড়িতে গিয়ে অন্যান্য প্রাণী আঁকার চেষ্টা করল।
রফিক তার ছোট ভাই রবিনকে ২ ও ৩ সংখ্যা ব্যবহার করে হাঁস ও উড়ন্ত পাখির ছবি আঁকতে শেখাচ্ছিল। রবিন প্রথমে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও, রফিকের দেখানো কৌশল অনুসরণ করে সে চমৎকারভাবে ছবিগুলো আঁকতে পারল। এতে রবিন খুব আনন্দিত হলো এবং আরও নতুন সংখ্যা দিয়ে ছবি আঁকার আগ্রহ প্রকাশ করল।