চারু ও কারুকলা · Class 7 · Chapter 5
রিনা তার চারপাশে দেখা জিনিসপত্রের বাস্তবধর্মী ছবি আঁকতে ভালোবাসে। সে জানে যে আকার-আকৃতির প্রতি সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিনা লক্ষ করেছে যে পৃথিবীর বেশিরভাগ জিনিসই বৃত্ত, চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজের মতো জ্যামিতিক আকৃতির মাঝে আবদ্ধ। সে চেষ্টা করে তার আঁকা ছবিতে আকার যতই বড়ো বা ছোটো হোক না কেন, আকৃতি যেন ঠিক থাকে।
শ্রেণিতে নকশা তৈরির সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে তারা ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ইত্যাদি দিয়ে নকশা অঙ্কনের কৌশল জেনেছিল। এখন তারা ফুল, লতাপাতার পাশাপাশি পাখি ও মাছের আকৃতি নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল চিন্তা দিয়ে আরও সুন্দর নকশা আঁকবে। তিনি পরামর্শ দিলেন যে যেকোনো নকশা অঙ্কনের পূর্বে, নকশায় যে সকল বিষয় ব্যবহার করব তার আকার ও আকৃতিগুলো আলাদা করে এঁকে পরে তা একটি নির্দিষ্ট মাপের মাঝে সাজালে সুন্দর নকশা তৈরি হবে।
শ্রেণিতে একটি ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অক্ষর ব্যবহার করে একটি নকশা অঙ্কন করতে বলা হলো। শিক্ষক বললেন যে অক্ষরগুলো কেবল লেখার জন্য নয়, সেগুলোকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে সুন্দর নকশাও তৈরি করা যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো অক্ষর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন তৈরি করতে শুরু করল।
রফিক তার ক্লাসে দেখল যে তার সহপাঠীরা বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের আকার-আকৃতি, গঠন পরিমাপ করছে। শিক্ষক তাদের বুঝিয়ে দিলেন যে বাস্তবধর্মী চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে এই পরিমাপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বললেন যে আকার যতই বড়ো কিংবা ছোটো হোক না কেন, আকৃতি ঠিক রাখতেই হবে।
শিক্ষিকা রুমি আপা তার শিক্ষার্থীদের বললেন যে নকশা বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে তৈরি করা হয়। যেমন—শাড়ির পাড়, কামিজ বা পাঞ্জাবির গলার নকশা, টেবিল ক্লথ বা কুশনের জন্য, ফুলদানি, নকশি পাতিল বা অন্য যে কোনো জিনিসকে শিল্পরূপ দেওয়ার জন্য নকশার প্রয়োজন হয়। তিনি তাদের একটি ব্যবহারিক কাজ দিলেন যেখানে মাছ ও পাখির আকৃতি ব্যবহার করে ৬" x ৬" মাপে একটা নকশা আঁকতে হবে।
শিল্পকলা প্রদর্শনীতে জ্যামিতিক আকৃতি (বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ) ব্যবহার করে তৈরি একটি আকর্ষণীয় নকশা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। নকশাটিতে বৃত্ত, চতুর্ভুজ, রম্বস ও ত্রিভুজের পুনরাবৃত্তিমূলক সুষম ব্যবহার করা হয়েছিল। দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে দেখছিল কীভাবে সাধারণ জ্যামিতিক আকৃতিগুলো দিয়ে এত সুন্দর একটি প্যাটার্ন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
একজন শিল্পী প্রাকৃতিক আকৃতি ব্যবহার করে একটি বৃত্তাকার নকশা তৈরি করছিলেন। তিনি মাছ এবং বৃত্তাকার জ্যামিতিক লাইনের মেলবন্ধনে আলপনার মতো সুন্দর লোকজ মোটিফের নকশা ফুটিয়ে তুললেন। তার কাজ দেখে বোঝা গেল যে প্রাকৃতিক ও জ্যামিতিক আকৃতির সংমিশ্রণে কত বৈচিত্র্যময় নকশা তৈরি করা সম্ভব।
রাজু একটি আর্ট গ্যালারিতে গেল যেখানে সে বিভিন্ন ধরনের নকশা দেখল। কিছু নকশা ছিল মাছ ও পাখির আকৃতি দিয়ে তৈরি, আবার কিছু নকশা ছিল জ্যামিতিক ও প্রাকৃতিক আকৃতির সমন্বয়ে। সে মুগ্ধ হয়ে দেখল কীভাবে শিল্পীরা কল্পনা করে বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি করেছে এবং সেগুলো শাড়ির পাড়, কামিজের গলার নকশা, টেবিল ক্লথ বা ফুলদানিতে ব্যবহার করা হয়েছে।