কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা বলা হয়।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সর্বশেষ শক্তিস্তরে দ্বিত্ব (2টি) বা অষ্টক (8টি) ইলেকট্রন পূর্ণ থাকে। এই দ্বিত্ব ও অষ্টক পূর্ণ থাকার কারণে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো অধিকতর স্থিতিশীল হয় এবং রাসায়নিকভাবে আসক্তিহীন হয়ে পড়ে।
ক্লোরিন একটি অধাতব মৌল। ক্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস । এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে 7টি ইলেকট্রন আছে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস (অষ্টক) অর্জনের জন্য এর 1টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। দুটি ক্লোরিন পরমাণু যখন কাছাকাছি আসে, তখন প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণু তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরের একটি করে ইলেকট্রন সরবরাহ করে এক জোড়া ইলেকট্রন তৈরি করে। এই এক জোড়া ইলেকট্রন উভয় পরমাণু শেয়ারের মাধ্যমে স্থিতিশীল অষ্টক বিন্যাস লাভ করে এবং সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়। এই বন্ধনকে একটি রেখার (–) মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেমন ।
একটি ধাতু। এর ইলেকট্রন বিন্যাস । এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে 2টি ইলেকট্রন আছে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জনের জন্য পরমাণু এই 2টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়নে পরিণত হয়। এর ফলে পরমাণু নিষ্ক্রিয় গ্যাসের (আর্গন) মতো ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে। এই ক্যাটায়ন তখন ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট অ্যানায়নের সাথে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে আয়নিক বন্ধন গঠন করে। যেমন, অক্সিজেন পরমাণু 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয়। তখন এবং এর মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়ে যৌগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়ন সৃষ্টি করে এবং এই ক্যাটায়ন অ্যানায়নের সাথে যুক্ত হয়ে রাসায়নিক বন্ধন গঠন করে।
SSC (Class 9-10) › Chemistry › Chapter 5: রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond) › Topic: নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর স্থিতিশীলতা
Aligned to the NCTB national curriculum.