২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রতি ১০০০ জীবন্ত জন্মের পর শিশুমৃত্যু ঘটে ২০ জন।
বাল্যবিবাহের কারণে অল্প বয়সে গর্ভধারণ করায় সন্তান দুর্বল ও পুষ্টিহীন হয়। অনেক সময় শারীরিক জটিলতায় এসব শিশু মৃত্যুবরণ করে, কারণ অল্পবয়সী মায়েদের শরীর ও মন মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত থাকে না।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৯০ সালে প্রতি হাজারে ১৪৯ জন শিশুমৃত্যু ঘটলেও, ২০০৬ সালে তা কমে ৬৯ জন, ২০০৮ সালে ৫২ জন, ২০১৬ সালে ২৮ জন এবং ২০২২ সালে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিক হ্রাস উন্নত চিকিৎসা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির ফল।
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর উচ্চ হার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। যখন একটি শিশু মারা যায়, তখন পরিবারে গভীর শোক নেমে আসে, যা পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই মানসিক চাপ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির স্বাভাবিক কাজ কর্মে বাধার সৃষ্টি করে, ফলে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া, শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পুষ্টি কর্মসূচিতে সরকারের যে বিনিয়োগ হয়, তা অকালে শিশুর মৃত্যু হলে বৃথা যায়। এটি দেশের মানবসম্পদ গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ প্রতিটি শিশুর জীবন একটি সম্ভাবনা যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারত। উচ্চ শিশুমৃত্যু হার একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকেও প্রভাবিত করতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের মা ও শিশুমৃত্যুর পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.