১৯৯০ সালে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ১৪৯ জন।
দারিদ্র্যের কারণে মা ও শিশু সঠিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। পুষ্টিহীনতা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করে।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর কারণ হলো শিশুদের সাঁতার না জানা, বয়স্কদের তত্ত্বাবধান ও সচেতনতার ঘাটতি এবং পুকুর-জলাধারে নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভাব। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় অসংখ্য পুকুর ও জলাধার রয়েছে, যেখানে শিশুরা অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে অকালে মারা যায়।
গ্রাম ও শহরের চিকিৎসা সুযোগ সুবিধার তারতম্য গ্রামীণ এলাকায় শিশুমৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে। শহরে উন্নত হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সহজলভ্যতা রয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকায় প্রায়শই অনুপস্থিত। গ্রামীণ এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয় এবং জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পেতে সমস্যা হয়। অনেক সময় গ্রাম্য প্রশিক্ষণহীন ধাত্রীর হাতে সন্তান প্রসব হয়, যা শিশুমৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং অবহেলার কারণেও গ্রামীণ শিশুরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পায় না, যা শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এই তারতম্য দূর করতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের মা ও শিশুমৃত্যুর পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.