কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজারে যতজন শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থুল জন্মহার বলে।
জনসংখ্যার পরিবর্তনশীল অবস্থাকে জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা বলা হয়। এটি জনসংখ্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং প্রধানত জন্মহার, মৃত্যুহার, স্থানান্তর ও সামাজিক গতিশীলতার উপর নির্ভর করে।
নয়নপুর গ্রামে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো উচ্চ জন্মহার ও নিম্ন মৃত্যুহার। উদ্দীপকে দেখা যায়, সেখানে বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে, যেখানে মেয়েরা পঞ্চম শ্রেণি পাস করার সাথে সাথে বিয়ে করে। বাল্যবিবাহ বেশি হলে জন্মহার বেশি হয়। এছাড়া, এক বছরে ৫০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং মাত্র পাঁচ জন শিশু মৃত্যুবরণ করে, যা উচ্চ জন্মহার ও নিম্ন মৃত্যুহার নির্দেশ করে, ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
নয়নপুর গ্রামে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমত, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মেয়েদের বিয়ের আইনানুগ বয়স (১৮ বছর) কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন এবং ছোটো পরিবার গঠনে গ্রামবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, নারী শিক্ষার অভাব দূর করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যা তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং ছোটো পরিবার গঠনে উৎসাহিত করবে। চতুর্থত, দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত, কারণ দারিদ্র্যও জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি কারণ।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ও ফলাফল
Aligned to the NCTB national curriculum.