দেশের ভিতরে যখন মানুষ এক স্থান হতে অন্য স্থানে গমন করে তখন তাকে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বলা হয়।
কোনো দেশে বাল্যবিবাহ বেশি হলে সে দেশের জন্মহার বেশি হয়। অল্প বয়সে বিয়ে হলে সন্তান ধারণের সময়কাল দীর্ঘ হয় এবং সাধারণত অধিক সন্তান জন্ম নেয়, যা জনসংখ্যার কাঠামোকে পরিবর্তন করে জন্মহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের দুটি প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য এবং উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে, বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে গ্রামের মানুষ শহরে কাজের সন্ধানে আসে। এছাড়া, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও অনেকে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে। উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য গ্রামের সক্ষম ও ধনী কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের উন্নত শিক্ষার জন্য শহরে পাঠায় এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণের জন্যও শহরে স্থানান্তর হয়।
অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের জীবনে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কর্মরত হওয়ায় তারা কর্মহীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। পূর্বে কর্মহীন থাকার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে বোঝা মনে করতো এবং বৈষম্য, বঞ্চনা, প্রতারণা ও নিপীড়নের শিকার হতেন। এখন তাদের উপার্জিত অর্থে তাদের পারিবারিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বেড়েছে। তাদের উপার্জিত অর্থে সন্তানরা লেখাপড়া করছে এবং উন্নত জীবনযাত্রার কিছুটা হলেও ভোগ করছে। এটি তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে এবং সমাজে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ও ফলাফল
Aligned to the NCTB national curriculum.