আমাদের দেশে সাধারণত ষাটোর্ধ্ব বয়সের মানুষকে প্রবীণ বলে গণ্য করা হয়।
বাস্তবে নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিশ্চিত না হওয়ার প্রধান কারণ হলো নারী অধিকার সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা।
সখিনা মূলত শিক্ষা লাভের অধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলেও তার বাবা-মা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন, যা তার শিক্ষার অধিকারকে খর্ব করেছে। এটি বাংলাদেশের সমাজে এখনও প্রচলিত যে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়, ফলে ভালো ছাত্রী হয়েও মেয়েরা অনেক সময় প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ পায় না। এছাড়াও, নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
সখিনার মতো মেয়েদের অধিকার রক্ষায় 'উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সরকারি পদক্ষেপ মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করে এবং তাদের বাবা-মায়ের উপর অর্থনৈতিক চাপ কমায়। যদি সখিনার বাবা-মা এই সুবিধা সম্পর্কে জানতেন এবং এর গুরুত্ব বুঝতেন, তাহলে হয়তো তারা তাকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করতেন। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আর্থিক অভাব যেন মেয়েদের লেখাপড়ার পথে বাধা না হয়। তবে, শুধু আর্থিক সুবিধা দিলেই হবে না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কুপ্রথা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করাও জরুরি, যাতে পিতামাতারা মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সমর্থন দেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার
Aligned to the NCTB national curriculum.