বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7
রুমা একজন গ্রামের মেয়ে। তার বাবা-মা তাকে প্রাথমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ দেননি এবং অল্প বয়সেই তার বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। রুমা মনে করেন, ছেলে-সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে পরিবার যতটা আগ্রহ দেখায়, মেয়েদের বেলায় তা দেখায় না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক রফিক মিয়া (৬৫) তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি বয়সের কারণে আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। তার কোনো সঞ্চিত অর্থ নেই এবং ছেলেমেয়েরা তার ভরণ-পোষণ করতে পারছে না। ফলে তাদের পরিবারে প্রায়ই খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এবং রফিক মিয়া অসুস্থ হলে ঔষধ কেনার সামর্থ্য তাদের থাকে না।
রহিমা তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতে চায়, কিন্তু তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি এতে আপত্তি জানান। তারা মনে করেন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা তাদের দায়িত্ব নয়।
মিতা (৬০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের উচিত সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখা।
মিতু (৭) একটি সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা-মা মনে করেন, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কম বুদ্ধিমতী এবং তাদের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রয়োজন নেই। তাই তারা মিতুকে প্রাথমিক শিক্ষার পর আর পড়াতে চান না।
শিক্ষিকা ফরিদা বেগম তার গ্রামের মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি করছেন। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তার মতে, নারী অধিকার সংরক্ষণ ও সর্বক্ষেত্রে তাকে অগ্রগামী হওয়ার সুযোগ দেওয়া একান্ত অপরিহার্য।
রাশেদ সাহেব একজন প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি তার অবসর জীবনে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে চান। তিনি মনে করেন, প্রবীণদেরও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক করিম মিয়া (৬৮) তার সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ সন্তানদের লেখাপড়া ও বিয়ের পেছনে খরচ করে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এখন বার্ধক্যে এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং কাজ করার সামর্থ্য নেই। তার ছেলেমেয়েরাও দরিদ্র হওয়ায় তার ভরণ-পোষণ করতে পারছে না।
রফিক সাহেব তার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে দেখলেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা একাকী থাকেন। তার ভাই-বোনেরা সবাই শহরে থাকে এবং কেউই তাদের বাবা-মাকে সময় দিতে পারে না। রফিক সাহেব দেখলেন তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবারও অভাব রয়েছে।
রাশেদা একজন গার্মেন্টস কর্মী। সে কারখানায় পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে বেশি সময় কাজ করে, কিন্তু তার মজুরি পুরুষদের চেয়ে কম। সে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করলে কারখানার মালিক তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেয়।
রফিক সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার স্ত্রীও কর্মজীবী। তারা দুজনেই কর্মব্যস্ত থাকায় বাবা-মার দেখাশোনা, গল্পগুজব করা বা অসুস্থ অবস্থায় সেবাযত্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। রফিক সাহেব মনে করেন, একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাওয়ায় এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
মিতু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা তাকে পড়াশোনার ব্যাপারে খুব উৎসাহিত করেন এবং তার বড় ভাইয়ের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দেন। কিন্তু তাদের গ্রামের অনেক মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মিতু মনে করে, সকল মেয়েরই শিক্ষার অধিকার আছে এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকা উচিত।
রেবেকা বেগম (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে চান এবং একটি সংগঠন গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন তার অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।
রেশমা একজন স্কুল শিক্ষিকা। তিনি তার কর্মস্থলে পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কম বেতন পান, যদিও তাদের কাজের পরিমাণ ও যোগ্যতা সমান। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়।
মিসেস সালমা তার বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে সমস্যায় আছেন। শাশুড়ি প্রায়ই স্মৃতিবিভ্রমের কারণে অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং তাকে একা রেখে কর্মস্থলে যাওয়া সালমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সালমা মনে করেন, প্রবীণদের এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার জন্য বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন।
জনাব আসিফ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবনের শেষে কোনো সঞ্চয় করতে পারেননি। এখন তারা তাদের সন্তানদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আসিফ এবং তার স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী এবং তাদের পক্ষে বাবা-মায়ের সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
৬০ বছর বয়সী মিসেস ফাহিমা অবসর গ্রহণের পর তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কর্মজীবী। ফলে ফাহিমাকে তাদের শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বয়সে এসব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়শই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না।
আনোয়ারা বেগম (৭২) একজন অসুস্থ প্রবীণ। তার ছেলেমেয়েরা তাকে পর্যাপ্ত সেবাযত্ন দিতে পারে না কারণ তারা দুজনেই কর্মজীবী। তিনি প্রায়শই অনুভব করেন যে তার শারীরিক কষ্ট এবং একাকীত্ব তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে।
সত্তর বছর বয়সী রফিক সাহেব তার গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে যাওয়ায় পরিবারটি ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হয়েছে। রফিক সাহেব এখন তার বাড়িতে একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
সালমা বেগম (৩০) একজন কর্মজীবী নারী। তার একটি শিশু সন্তান আছে। তার কর্মস্থলে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার নেই, ফলে তাকে সন্তানকে বাড়িতে রেখে কাজ করতে হয়, যা তার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
মিতা (২৫) একজন গ্রামীণ নারী। সে ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। মিতার ইচ্ছা ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন শিক্ষিকা হওয়ার। এখন সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না।
আবিরের মা (৬৫) একজন গৃহিণী। আবিরের বাবা নেই। আবির তার মায়ের দেখাশোনা করতে চায়, কিন্তু তার স্ত্রী এতে রাজি নয়। আবিরের স্ত্রী মনে করে বৃদ্ধ মা তাদের জন্য বোঝা।
সত্তরোর্ধ্ব মজিদ সাহেব তার ছোট ছেলের সাথে বসবাস করেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রায়ই তাকে সংসারের বোঝা মনে করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। মজিদ সাহেব প্রায়ই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
আকলিমা বেগম (৬৯) গ্রামের একজন দরিদ্র মহিলা। তার পরিবারে কেউ নেই তার দেখাশোনা করার জন্য। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনতে পারেন না।
রেজাউল সাহেব (৬২) একজন কৃষক। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সব সম্পত্তি হারিয়েছেন। এখন তিনি অসুস্থ এবং কাজ করতে পারেন না। তার ছেলেমেয়েরা তাকে দেখাশোনা করতে রাজি নয়।
হাফিজা বেগম (৭০) তার নাতনীর বিয়েতে মতামত দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। এতে হাফিজা বেগম খুবই মনঃক্ষুণ্ণ হন। অপরদিকে, তার শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও ঔষধপথ্য কেনার সামর্থ্য তার নেই।
মিফতাহুল জান্নাত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তার এলাকার অনেকেই মনে করে, মেয়েদের প্রকৌশলী হওয়ার দরকার নেই, বরং তাদের শিক্ষক বা ডাক্তার হওয়া উচিত। তার সহপাঠী ছেলেরাও তাকে প্রায়ই কটূক্তি করে।
শহরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রহমত সাহেব (৬৮) অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না। রোগব্যাধিতে ঔষধপথ্য কেনার সামর্থ্যও তাঁর নেই।
আয়েশা (২০) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার স্বামী বেকার এবং প্রায়ই তাকে মারধর করে। আয়েশা তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয় এবং মনে করে এটি তার নিয়তি। তার কর্মস্থলেও তাকে পুরুষের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়।
রহিমা বেগম (৭২) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। তার ছেলে-মেয়েরা তাকে ঠিকমতো দেখাশোনা করে না। তিনি শুনেছেন সরকার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা প্রদান করে।
ফারজানা বেগম (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন জীবন পাঠাগারে বই পড়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কাটাতে চান। কিন্তু তার শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি একা একা বাইরে যেতে পারেন না এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে সময় দিতে পারে না।
একটি বেসরকারি সংস্থা 'বৃদ্ধ নিবাস' প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করছে। তারা প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা দান, পুনর্বাসন, চিত্তবিনোদন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন এবং পাঠাগার সুবিধা প্রদান করে।
শিক্ষিকা রুবিনা বেগম (৫৫) সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে। তিনি শুনেছেন, সরকারি কর্মচারীরা অবসর গ্রহণ করলে পেনশন পেয়ে থাকেন। তিনি জানতে চান, এই সুবিধাটি প্রবীণদের কল্যাণে কীভাবে কাজ করে।
রফিক সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঞ্চিত অর্থ ছেলেমেয়েদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং তাঁকে প্রায়ই অর্থকষ্টে ভুগতে হয়।
সালমা (২৫) একজন শিক্ষিত নারী। সে তার এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কিন্তু তার এলাকার পুরুষ সদস্যরা মনে করে, 'নারীর জন্য ঘরের কাজই যথেষ্ট, বাইরে কাজ করার দরকার নেই।' তারা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে।
রিনা (২৫) একজন মেধাবী ছাত্রী। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বাইরে যেতে চায়। কিন্তু তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়, কারণ তারা মনে করে মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা অর্থহীন।
গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সালমা (১৩) পড়ালেখায় খুব ভালো। কিন্তু তার বাবা-মা তাকে আর পড়াতে চান না, কারণ তারা মনে করেন মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত এবং পড়ালেখায় বেশি খরচ করা অর্থহীন।
মিজান সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি এখন অবসর ভাতা পান। কিন্তু তার প্রতিবেশী রফিক সাহেব (৬৫) একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। তিনি এখন আর কাজ করতে পারেন না এবং তার সন্তানদেরও তাকে ভরণ-পোষণ করার সামর্থ্য নেই। রফিক সাহেব তার নিজের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারেন না এবং প্রায়শই নিজেকে অসহায় ও অবহেলিত মনে করেন।
হাফিজা বেগম (৭০) তার গ্রামের বাড়িতে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন। তার দুই ছেলে শহরে থাকে এবং তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে মায়ের দেখাশোনা করার সময় পায় না। হাফিজা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পান। গ্রামের প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি প্রায়ই অনুভব করেন যে পরিবারে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তিনি সমাজের বোঝা হয়ে উঠেছেন।
করিম সাহেব (৬৭) তার পরিবারের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ দুজনেই কর্মজীবী। তাদের ব্যস্ততার কারণে করিম সাহেবের সাথে গল্প করার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই। এতে তিনি প্রায়শই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন। অন্যদিকে, তার নাতি-নাতনিদের স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয়, যা এই বয়সে তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
রহিম সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর এক বিশাল অঙ্কের টাকা পান। তিনি তার অবসরকালীন জীবন আরাম-আয়েশে কাটাতে চান। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তার সঞ্চিত অর্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য তার উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রহিম সাহেব তার ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।
গ্রামের সালমা বেগম (৩২) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করলেও তিনি তাদের চেয়ে কম মজুরি পান। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তার সুপারভাইজার তাকে কাজ হারানোর হুমকি দেন। সালমার মনে হয়, সমাজে নারীর অবস্থান এখনও অনেক পিছিয়ে।
শহরের রিনা বেগম (৩৫) একজন শিক্ষিত নারী। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি তার ছোট বোনকে উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহিত করেন, যদিও তাদের বাবা-মা মনে করেন মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়া উচিত।
৭০ বছরের সিদ্দিকা খাতুনের ইচ্ছা করে পুরানো দিনের গল্প করতে কিন্তু তাঁর ছেলে মেয়েদের গল্প শোনার সময় নেই। এমন কি তাঁর নাতনীর বিয়ের সময় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় না। পাশের বাড়ির জোবেদা বেগম সিদ্দিকা খাতুনের ছেলে মেয়েদের বলেন, তোমাদের উচিত তোমার মায়ের খাবার ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খেয়াল রাখা। তাঁকে মাঝে মাঝে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া।
করিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি একটি বৃদ্ধ নিবাসে বসবাস করেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, চিত্তবিনোদন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ পান।
শিরিন বেগম (৪০) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি সন্তান প্রসব করেছেন এবং তার কর্মস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তার মালিক তাকে মাত্র তিন মাসের ছুটি দিতে রাজি, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী।
ফাতেমা বেগম (৬৫) একজন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা প্রবীণ। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ভালোবাসেন। কিন্তু তার পরিবার এবং সমাজের অনেকেই তার মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং তাকে ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। ফলে তিনি নিজেকে কোণঠাসা ও অবহেলিত মনে করেন।
রাশেদা বেগম (৪০) সরকারি চাকরি করেন। তার দুটি সন্তান। সম্প্রতি তার তৃতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সরকারি পদক্ষেপ নারীর কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে এবং সন্তান লালন-পালনে অত্যন্ত সহায়ক।
রিমা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামীও কর্মজীবী। তাদের একটি ছোট সন্তান আছে। রিমার শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে থাকেন। তারা চান রিমা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের দেখাশোনা করে। কিন্তু রিমা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কর্মজীবনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
একটি গ্রামে দেখা যায়, ছেলে শিশুদের লেখাপড়ার ব্যাপারে পরিবার যতটা আগ্রহ দেখায়, মেয়েদের বেলায় তা দেখায় না। বিশেষ করে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়, ফলে ভালো ছাত্রী হয়েও মেয়েরা অনেক সময় প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ পায় না।