বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7
ফরিদা বেগম (৭৫) তার ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে থাকেন। সংসারের সব কাজ তাকেই করতে হয়, এমনকি নাতনিদের স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্বও তার। এই বয়সে এত কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করে না।
রহিমা তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতে চায়, কিন্তু তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি এতে আপত্তি জানান। তারা মনে করেন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা তাদের দায়িত্ব নয়।
মিসেস ফাতেমা একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি তার আত্মীয়-স্বজনকে এ বিষয়ে জানালেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। তিনি মনে করেন, তিনি একজন নারী হওয়ায় এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং তার কোনো অধিকার নেই।
মিসেস ফাতেমা (৬৫) একজন গৃহিণী। তার স্বামী মারা গেছেন। তার কোনো সরকারি বা বেসরকারি পেনশন নেই। তিনি নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রিমা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামীও কর্মজীবী। তাদের একটি ছোট সন্তান আছে। রিমার শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে থাকেন। তারা চান রিমা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের দেখাশোনা করে। কিন্তু রিমা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কর্মজীবনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
জনাব আহমেদ (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। তার এক ছেলে দেশের বাইরে থাকে, আরেক ছেলে শহরে থাকে। তার স্ত্রী মারা গেছেন। ফলে তিনি একাকীত্বে ভোগেন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ নেই।
সত্তর বছর বয়সী মিসেস রোকসানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার সঞ্চিত অর্থ নেই এবং সন্তানরাও তাকে ভরণ-পোষণ দিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি মনে করেন তার জীবন এখন কেবল অন্যের উপর নির্ভরশীল।
রহিমা বেগম (৬৫) তার গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন। তার স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছেন। তার কোনো সন্তান নেই। তিনি বয়সের কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না এবং তার কোনো সঞ্চয়ও নেই। ফলে তিনি চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। গ্রামের একজন সমাজকর্মী তাকে সরকারি একটি কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
রাহেলা বেগম (৭২) একজন গ্রামের মহিলা। তিনি তার নাতীদের সাথে গল্প করতে পছন্দ করেন, কিন্তু তারা এখন স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার ছেলে-মেয়েরা শহরে থাকে এবং মাসে একবার তাকে দেখতে আসে। রাহেলা বেগম অনুভব করেন যে, তার মতামতকে পরিবারে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন।
আবিরের মা (৬৫) একজন গৃহিণী। আবিরের বাবা নেই। আবির তার মায়ের দেখাশোনা করতে চায়, কিন্তু তার স্ত্রী এতে রাজি নয়। আবিরের স্ত্রী মনে করে বৃদ্ধ মা তাদের জন্য বোঝা।
মিতা বেগম একজন কর্মজীবী নারী। তার কর্মস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা হয়েছে, যা তাকে সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করছে। তবে তার কর্মস্থলে এখনও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মজুরি কম দেওয়া হয়। মিতা মনে করেন, নারীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর না হলে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জনাব হাবিব সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তার বয়স ৬৮ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে নতুন কিছু শিখতে চান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, প্রবীণদের জন্যও যথাযোগ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
রেহানা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। তিনি তার স্বামীর এই আচরণের প্রতিবাদ করতে পারেন না, কারণ তিনি মনে করেন তার কোনো অধিকার নেই এবং তিনি স্বামীর উপর নির্ভরশীল। তার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পেলেও রেহানা বেগম নিজে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রহিম সাহেব (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি এখন বাড়িতে থাকেন। তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে যথেষ্ট সম্মান করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়। তিনি মাঝে মাঝে স্থানীয় সামাজিক কাজে অংশ নেন এবং বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।
৭০ বছর বয়স্ক জনাব রহমান সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা কর্মজীবী হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করার জন্য একজন গৃহকর্মী রাখা হয়েছে। গৃহকর্মী তাকে ঠিকমতো খাবার দেয় না এবং তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। রহমান সাহেব মনে মনে কষ্ট পান কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেন না।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নিগৃহীতা হওয়ার কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুবই অসহায়। তার কোনো সন্তান নেই এবং তার দেখাশোনা করার মতোও কেউ নেই। তিনি এখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছুটা সহায়তা আশা করেন।
মিতা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাবা-মা মনে করেন, মেয়েরা বেশি লেখাপড়া করে কী করবে, তাদের তো শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে। তাই তারা মিতার পড়ালেখার ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেন না।
শিপ্রা বেগম একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার স্বামীও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে। শিপ্রা বেগম মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে ছয় মাস ছুটি ভোগ করেন। তার কর্মস্থলে পুরুষ সহকর্মীরা তার এই ছুটি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে। শিপ্রা বেগম মনে করেন এই ছুটি তার অধিকার।
ফারুক সাহেব সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা নিজেদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। ফারুক সাহেব এখন বেশিরভাগ সময় একা থাকেন এবং নিজের পছন্দের কাজগুলো করার সুযোগ পান না। তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তিনি নিজেও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
মিতুল একজন কলেজের ছাত্রী। সে দেখে যে তার সহপাঠী মেয়েদের তুলনায় ছেলে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়। মিতুল মনে করে এই বৈষম্য দূর হওয়া উচিত।
রহিমা খাতুন একজন বিধবা মহিলা। তার বয়স ৬৫ বছর। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই যে তাকে দেখাশোনা করবে। তিনি একসময় খুব সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু এখন বার্ধক্যের কারণে শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই।
সত্তরোর্ধ্ব মজিদ সাহেব তার ছোট ছেলের সাথে বসবাস করেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রায়ই তাকে সংসারের বোঝা মনে করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। মজিদ সাহেব প্রায়ই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
রহিমা বেগম একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান কাজ করলেও মজুরি পান কম। তিনি যখন এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করেন, তখন তাকে বলা হয় যে তার কাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত কারণ একজন নারীর এত কথা বলা উচিত নয়।
রিনা বেগম (৫০) একজন গৃহিণী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের সব কাজ করেন। তার স্বামী প্রায়শই তাকে ঘরের কাজের জন্য ছোটখাটো বিষয়ে গালমন্দ করেন। তিনি মনে করেন, একজন নারী হিসেবে তার অধিকারগুলো নিশ্চিত হচ্ছে না।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন গ্রামীণ অসহায় ও দরিদ্র মহিলা। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার কোনো সন্তান নেই। তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তার প্রতিবেশী রিনা বেগম (৬২) একজন বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা। তিনি নিজেও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
মিঃ আলম (৮০) একজন কৃষক। তিনি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারকে ভরণ-পোষণ করেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যের কারণে কাজ করতে পারেন না এবং তার কোনো সঞ্চয়ও নেই। তার ছেলেরা তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত নয় এবং তিনি প্রায়শই অনাহারে থাকেন।
রহিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে গ্রামের যুবকদের জন্য একটি পাঠাগার স্থাপন করতে চান এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু গ্রামের কিছু যুবক মনে করে, বৃদ্ধ বয়সে তার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব নয়।
মিজ ফাহমিদা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে। তার সহকর্মীরা তাকে দেখে হাসাহাসি করে এবং মন্তব্য করে যে, 'নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কেবল বিশ্রাম করে, কাজ করতে পারে না।'
শহরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রহিমা বেগম (৬০) তার পরিবারের বোঝা হিসেবে বিবেচিত হন। তার সন্তানরা তাকে দেখাশোনা করতে চায় না এবং প্রায়শই তাকে অবহেলা করে। রহিমা বেগম অসুস্থ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না এবং ঔষধ কেনারও সামর্থ্য তার নেই। তিনি মনে করেন, তার মতো অসহায় প্রবীণদের জন্য সমাজে কোনো স্থান নেই।
ফাতেমা বেগম একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন এবং সন্তানদের দ্বারাও অবহেলিত হন। তিনি সরকারি একটি ভাতার কথা জানতে পারেন যা তাকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।
আকলিমা বেগম (৬৯) গ্রামের একজন দরিদ্র মহিলা। তার পরিবারে কেউ নেই তার দেখাশোনা করার জন্য। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনতে পারেন না।
৬০ বছর বয়সী মিসেস ফাহিমা অবসর গ্রহণের পর তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কর্মজীবী। ফলে ফাহিমাকে তাদের শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বয়সে এসব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়শই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না।
আয়েশা বেগম একজন গ্রাম্য মহিলা। তার বয়স ৬২ বছর। তার স্বামী নেই এবং তিনি খুব দরিদ্র। তিনি তার সন্তানদের উপর নির্ভরশীল হতে চান না এবং নিজের মতো করে চলতে চান।
মিসেস রিনা একজন সফল প্রকৌশলী। তিনি তার কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের মতোই দক্ষতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় তাকে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে অবজ্ঞা ও কটাক্ষের শিকার হতে হয়। রিনা মনে করেন, সমাজে এখনও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি।
জনাব মজিবুর রহমান একজন ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ। তিনি তার গ্রামের বাড়িতে একাকী থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা শহরে থাকে এবং কর্মব্যস্ততার কারণে খুব কমই গ্রামে আসতে পারে। মজিবুর রহমান মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ থাকে না। তিনি মনে করেন, তার একটু সঙ্গ এবং যত্নের প্রয়োজন।
শিক্ষিকা রুবিনা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সভা-সমিতি ও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে এবং তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
মিসেস আয়েশা একজন গৃহিণী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। কিন্তু তার স্বামী মনে করেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভ করে লাভ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতেই যেতে হবে। তাই তিনি ছেলের লেখাপড়ার পেছনে বেশি অর্থ খরচ করেন এবং মেয়ের জন্য কম।
সালমা বেগম (৩০) একজন কর্মজীবী নারী। তার একটি শিশু সন্তান আছে। তার কর্মস্থলে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার নেই, ফলে তাকে সন্তানকে বাড়িতে রেখে কাজ করতে হয়, যা তার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
সত্তর বছর বয়সী রফিক সাহেব তার গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে যাওয়ায় পরিবারটি ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হয়েছে। রফিক সাহেব এখন তার বাড়িতে একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
লামিয়া অষ্টম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। সে ভালো ফলাফল করা সত্ত্বেও তার পরিবার তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠাতে রাজি নয়। তারা মনে করে মেয়েদের বেশি পড়ালেখা করে লাভ নেই, বরং অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। লামিয়ার ছোট ভাই শুভকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তার পরিবার।
মিতু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা তাকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং সে উপবৃত্তিও পায়। তবে তার ছোট ভাই যখন ক্রিকেট ব্যাট ও বল পায়, তখন মিতু পুতুল ও হাঁড়ি-পাতিল পায়। মিতু মনে করে, তার বাবা-মা এখনও ছেলে-মেয়ের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
রোজিনা তার স্বামীকে ছেলেমেয়েদের জন্য খেলনা আনতে বলেন। বাজার থেকে তার স্বামী ছেলের জন্য ক্রিকেট বল ও ব্যাট এবং মেয়ের জন্য পুতুল ও হাঁড়ি-পাতিল কিনে আনলেন।
রেবেকা তার স্বামীর সাথে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। একই পদে কাজ করা সত্ত্বেও রেবেকা তার পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে কম মজুরি পায়। একবার সে এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে বলা হয়, 'নারী হিসেবে তোমার এই পরিমাণ মজুরিই যথেষ্ট।'
জনাব আলী সাহেব একজন কৃষক। তার বয়স ৬৫ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার নিজের কোনো আয় নেই এবং সন্তানদের উপর নির্ভরশীল। তার পরিবারে পর্যাপ্ত খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি অসহায় প্রবীণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দিত, তবে তার মতো অনেকেই ভালো জীবনযাপন করতে পারত।
রেজাউল সাহেব (৬২) একজন কৃষক। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সব সম্পত্তি হারিয়েছেন। এখন তিনি অসুস্থ এবং কাজ করতে পারেন না। তার ছেলেমেয়েরা তাকে দেখাশোনা করতে রাজি নয়।
জনাব আখতার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ৬৫ বছর বয়সেও বেশ কর্মঠ এবং সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবার মনে করে, এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং তাকে কোনো কাজে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করে। জনাব আখতার মনে করেন, প্রবীণদের সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
রফিক সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঞ্চিত অর্থ ছেলেমেয়েদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং তাঁকে প্রায়ই অর্থকষ্টে ভুগতে হয়।
সালমা (২৫) একজন শিক্ষিত নারী। সে তার এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কিন্তু তার এলাকার পুরুষ সদস্যরা মনে করে, 'নারীর জন্য ঘরের কাজই যথেষ্ট, বাইরে কাজ করার দরকার নেই।' তারা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে।
গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া রেখা বেগম ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার সুযোগ পাননি। অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায় এবং তিনি গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার স্বামী একজন কৃষক এবং তাদের আয় খুব কম। রেখা বেগম মনে করেন, যদি তিনি পড়াশোনার সুযোগ পেতেন, তবে তিনিও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতেন এবং তার জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো।
রহিমা বেগম (৭২) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। তার ছেলে-মেয়েরা তাকে ঠিকমতো দেখাশোনা করে না। তিনি শুনেছেন সরকার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা প্রদান করে।