বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7
এক সময় গ্রামের পরিবারগুলোতে প্রবীণদের মতামতকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে ছোটো পরিবারে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে প্রবীণদের মতামতকে আর আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তারা সমাজে প্রায় গৌণ বিবেচিত হন। তাদের পাশে বসে কথা বলার সময়ও যেন কারও নেই।
করিম সাহেব তার ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই স্কুলে পাঠান। তিনি মনে করেন তার ছেলে বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে এবং মেয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে। তাই তিনি ছেলের পড়ালেখার পেছনে বেশি খরচ করেন এবং মেয়েকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে রাজি নন।
ফরিদা বেগম (৭৫) তার ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে থাকেন। সংসারের সব কাজ তাকেই করতে হয়, এমনকি নাতনিদের স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্বও তার। এই বয়সে এত কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করে না।
জনাব আসিফ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবনের শেষে কোনো সঞ্চয় করতে পারেননি। এখন তারা তাদের সন্তানদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আসিফ এবং তার স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী এবং তাদের পক্ষে বাবা-মায়ের সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন গ্রামীণ অসহায় ও দরিদ্র মহিলা। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার কোনো সন্তান নেই। তিনি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তার প্রতিবেশী রিনা বেগম (৬২) একজন বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা। তিনি নিজেও বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
রহিমা তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতে চায়, কিন্তু তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি এতে আপত্তি জানান। তারা মনে করেন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা তাদের দায়িত্ব নয়।
ফারজানা একজন গৃহিণী। সে তার পরিবারের সব কাজ একা করে। তার স্বামী একজন কর্মজীবী। ফারজানা মনে করে, তার কাজকে সমাজের মানুষ গুরুত্ব দেয় না এবং তাকে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, দেশের উন্নয়নে তার কোনো ভূমিকা নেই।
রিনা (২৫) একজন মেধাবী ছাত্রী। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বাইরে যেতে চায়। কিন্তু তার পরিবার তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চায়, কারণ তারা মনে করে মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা অর্থহীন।
আবিরের মা (৬৫) একজন গৃহিণী। আবিরের বাবা নেই। আবির তার মায়ের দেখাশোনা করতে চায়, কিন্তু তার স্ত্রী এতে রাজি নয়। আবিরের স্ত্রী মনে করে বৃদ্ধ মা তাদের জন্য বোঝা।
রেবেকা বেগম (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে চান এবং একটি সংগঠন গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন তার অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।
৬০ বছর বয়সী মিসেস ফাহিমা অবসর গ্রহণের পর তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কর্মজীবী। ফলে ফাহিমাকে তাদের শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বয়সে এসব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়শই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না।
জনাব মজিবুর রহমান একজন ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ। তিনি তার গ্রামের বাড়িতে একাকী থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা শহরে থাকে এবং কর্মব্যস্ততার কারণে খুব কমই গ্রামে আসতে পারে। মজিবুর রহমান মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ থাকে না। তিনি মনে করেন, তার একটু সঙ্গ এবং যত্নের প্রয়োজন।
৭০ বছর বয়স্ক জনাব রহমান সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা কর্মজীবী হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করার জন্য একজন গৃহকর্মী রাখা হয়েছে। গৃহকর্মী তাকে ঠিকমতো খাবার দেয় না এবং তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। রহমান সাহেব মনে মনে কষ্ট পান কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেন না।
গ্রামের একটি ছোট পরিবারে পুত্রসন্তানের জন্ম হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, কিন্তু কন্যাসন্তানের জন্ম হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। এমনকি কন্যাসন্তানকে পড়ালেখার সুযোগ না দিয়ে অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
মিসেস ফাতেমা (৬৫) একজন গৃহিণী। তার স্বামী মারা গেছেন। তার কোনো সরকারি বা বেসরকারি পেনশন নেই। তিনি নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সত্তরোর্ধ্ব মজিদ সাহেব তার ছোট ছেলের সাথে বসবাস করেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রায়ই তাকে সংসারের বোঝা মনে করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। মজিদ সাহেব প্রায়ই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক রফিক মিয়া (৬৫) তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি বয়সের কারণে আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। তার কোনো সঞ্চিত অর্থ নেই এবং ছেলেমেয়েরা তার ভরণ-পোষণ করতে পারছে না। ফলে তাদের পরিবারে প্রায়ই খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এবং রফিক মিয়া অসুস্থ হলে ঔষধ কেনার সামর্থ্য তাদের থাকে না।
ফারুক সাহেব সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা নিজেদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। ফারুক সাহেব এখন বেশিরভাগ সময় একা থাকেন এবং নিজের পছন্দের কাজগুলো করার সুযোগ পান না। তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তিনি নিজেও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
রহিমা খাতুন একজন বিধবা মহিলা। তার বয়স ৬৫ বছর। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই যে তাকে দেখাশোনা করবে। তিনি একসময় খুব সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু এখন বার্ধক্যের কারণে শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই।
রিমা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামীও কর্মজীবী। তাদের একটি ছোট সন্তান আছে। রিমার শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে থাকেন। তারা চান রিমা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের দেখাশোনা করে। কিন্তু রিমা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কর্মজীবনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
মিস্টার কামাল একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনি অবসর গ্রহণের পর তার সঞ্চিত অর্থ ও পেনশন দিয়ে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মনে করেন, অবসর গ্রহণের পরেও মানুষের কাজ করার অথবা অন্য কোনোভাবে আয়-উপার্জন করার অধিকার থাকা উচিত।
ফারুক সাহেব একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি ৬৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। তার স্ত্রীও একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তারা দুজনেই তাদের অবসর ভাতা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। তবে তারা তাদের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সঙ্গ পান না।
জনাব আহমেদ (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। তার এক ছেলে দেশের বাইরে থাকে, আরেক ছেলে শহরে থাকে। তার স্ত্রী মারা গেছেন। ফলে তিনি একাকীত্বে ভোগেন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ নেই।
মিঃ আলম (৮০) একজন কৃষক। তিনি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারকে ভরণ-পোষণ করেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যের কারণে কাজ করতে পারেন না এবং তার কোনো সঞ্চয়ও নেই। তার ছেলেরা তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত নয় এবং তিনি প্রায়শই অনাহারে থাকেন।
হাফিজার সংসার স্বামী এবং তিন সন্তান নিয়ে। স্বামীর একক আয়ে তার সংসার চলে না। সংসারের অভাব পূরণে হাফিজা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেয়। সপ্তাহ শেষে মজুরি গ্রহণের সময় মালিক তাকে দৈনিক ৬০০ টাকা হারে মজুরি দেয়। অথচ একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকদের ৮০০ টাকা হারে দৈনিক মজুরি দেয়। সে এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে কাজে আসতে নিষেধ করে।
সত্তর বছর বয়সী রফিক সাহেব তার গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে যাওয়ায় পরিবারটি ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হয়েছে। রফিক সাহেব এখন তার বাড়িতে একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
রিনা ও মিনা দুই বোন। রিনার বাবা তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠান, কারণ তিনি মনে করেন রিনা ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবে। কিন্তু মিনা গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তার বাবা তাকে আর স্কুলে পাঠান না, কারণ তিনি মনে করেন মেয়েদের বেশি পড়ালেখা করে লাভ নেই, তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত।
রফিক সাহেব তার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে দেখলেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা একাকী থাকেন। তার ভাই-বোনেরা সবাই শহরে থাকে এবং কেউই তাদের বাবা-মাকে সময় দিতে পারে না। রফিক সাহেব দেখলেন তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবারও অভাব রয়েছে।
রহিমা বেগম (৭২) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। তার ছেলে-মেয়েরা তাকে ঠিকমতো দেখাশোনা করে না। তিনি শুনেছেন সরকার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা প্রদান করে।
মিসেস আয়েশা একজন গৃহিণী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। কিন্তু তার স্বামী মনে করেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভ করে লাভ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতেই যেতে হবে। তাই তিনি ছেলের লেখাপড়ার পেছনে বেশি অর্থ খরচ করেন এবং মেয়ের জন্য কম।
মিতা একটি গ্রামে বাস করে। তার মা গৃহিণী এবং বাবা দিনমজুর। মিতা ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা-মা তাকে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করাতে রাজি নন। তারা মনে করেন, মেয়ের পড়াশোনার পেছনে বেশি খরচ করা অপচয় এবং অল্প বয়সে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়াই ভালো।
রাশেদা একজন গার্মেন্টস কর্মী। সে কারখানায় পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে বেশি সময় কাজ করে, কিন্তু তার মজুরি পুরুষদের চেয়ে কম। সে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করলে কারখানার মালিক তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেয়।
রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অবসরের পর তিনি নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন। তার স্ত্রীও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং তিনি প্রতি মাসে পেনশন পান। তাদের দুই ছেলে-মেয়েই উচ্চশিক্ষিত এবং ভালো চাকরি করেন। তারা সবাই মিলে একটি সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।
মিজ ফাহমিদা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে। তার সহকর্মীরা তাকে দেখে হাসাহাসি করে এবং মন্তব্য করে যে, 'নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কেবল বিশ্রাম করে, কাজ করতে পারে না।'
সেলিনা বেগম (৬৫) একজন গৃহিণী। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার এক ছেলে বিদেশে থাকে। তার মেয়ে বিবাহিত এবং শ্বশুরবাড়িতে থাকে। সেলিনা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ নেই। তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন এবং প্রায়ই বিষণ্ণ থাকেন।
সত্তর বছর বয়সী মিসেস রোকসানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার সঞ্চিত অর্থ নেই এবং সন্তানরাও তাকে ভরণ-পোষণ দিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি মনে করেন তার জীবন এখন কেবল অন্যের উপর নির্ভরশীল।
সালমা (২৫) একজন শিক্ষিত নারী। সে তার এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কিন্তু তার এলাকার পুরুষ সদস্যরা মনে করে, 'নারীর জন্য ঘরের কাজই যথেষ্ট, বাইরে কাজ করার দরকার নেই।' তারা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে।
৭০ বছরের সিদ্দিকা খাতুনের ইচ্ছা করে পুরানো দিনের গল্প করতে কিন্তু তাঁর ছেলে মেয়েদের গল্প শোনার সময় নেই। এমন কি তাঁর নাতনীর বিয়ের সময় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় না। পাশের বাড়ির জোবেদা বেগম সিদ্দিকা খাতুনের ছেলে মেয়েদের বলেন, তোমাদের উচিত তোমার মায়ের খাবার ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খেয়াল রাখা। তাঁকে মাঝে মাঝে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া।
জনাব আসলাম তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে শহরে চাকরি করেন। তিনি মাসে একবার তাদের দেখতে যান এবং কিছু টাকা পাঠান। তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতায় ভোগেন এবং তাদের দেখাশোনা বা অসুখ-বিসুখে সেবাযত্নের অভাব অনুভব করেন।
শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মিজ সায়মা। তিনি সম্প্রতি মা হয়েছেন এবং তার কর্মস্থল থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছেন। তার পুরুষ সহকর্মীরা তার ছুটির সময়কাল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে এবং তার কাজে ফিরে আসা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
করিম সাহেব (৬৭) তার পরিবারের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ দুজনেই কর্মজীবী। তাদের ব্যস্ততার কারণে করিম সাহেবের সাথে গল্প করার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই। এতে তিনি প্রায়শই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন। অন্যদিকে, তার নাতি-নাতনিদের স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয়, যা এই বয়সে তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
জনাব কামাল একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত অবসর ভাতা পান। অন্যদিকে তার স্ত্রী মিসেস কামাল গৃহিণী এবং কোনো আয় করেন না। তাদের ছেলে-মেয়ে উভয়েই কর্মজীবী। সম্প্রতি সরকার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে।
রিনা বেগম (৭২) একজন বৃদ্ধা মহিলা। তার ছেলেমেয়েরা তাকে মাঝে মাঝে খাবার ও কাপড় দেয়, কিন্তু তার সাথে গল্পগুজব করার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো সময় তাদের নেই। রিনা বেগম প্রায়ই একাকীত্বে ভোগেন এবং মনে করেন তিনি পরিবারের বোঝা।
রহিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে গ্রামের যুবকদের জন্য একটি পাঠাগার স্থাপন করতে চান এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু গ্রামের কিছু যুবক মনে করে, বৃদ্ধ বয়সে তার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব নয়।
নাসরিন একজন উচ্চশিক্ষিতা নারী। সে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চ পদে চাকরি করে। তার সহকর্মীরা তাকে সম্মান করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়। নাসরিন মনে করে, সমাজে নারীর এই অবস্থান তৈরি হয়েছে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কারণে।
মিসেস রিনা একজন সফল প্রকৌশলী। তিনি তার কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের মতোই দক্ষতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় তাকে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে অবজ্ঞা ও কটাক্ষের শিকার হতে হয়। রিনা মনে করেন, সমাজে এখনও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নিগৃহীতা হওয়ার কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুবই অসহায়। তার কোনো সন্তান নেই এবং তার দেখাশোনা করার মতোও কেউ নেই। তিনি এখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছুটা সহায়তা আশা করেন।
একটি গ্রামে দেখা যায়, ছেলে শিশুদের লেখাপড়ার ব্যাপারে পরিবার যতটা আগ্রহ দেখায়, মেয়েদের বেলায় তা দেখায় না। বিশেষ করে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়, ফলে ভালো ছাত্রী হয়েও মেয়েরা অনেক সময় প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ পায় না।
জনাব আখতার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ৬৫ বছর বয়সেও বেশ কর্মঠ এবং সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবার মনে করে, এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং তাকে কোনো কাজে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করে। জনাব আখতার মনে করেন, প্রবীণদের সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
রফিক সাহেব তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার স্ত্রীও কর্মজীবী। তারা দুজনেই কর্মব্যস্ত থাকায় বাবা-মার দেখাশোনা, গল্পগুজব করা বা অসুস্থ অবস্থায় সেবাযত্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। রফিক সাহেব মনে করেন, একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাওয়ায় এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।