বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের সর্বনিম্ন বয়স মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর।
প্রবীণদের নিজস্ব আয়-রোজগারের সুযোগ না থাকায় এবং সঞ্চিত অর্থ ও সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ প্রবীণই অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। তাঁদেরকে সন্তানদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়।
মিসেস ফাতেমার সমস্যার সমাধানে সরকারের দুটি কার্যক্রম সহায়ক হতে পারে: ১. বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম: তিনি যেহেতু ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অর্থনৈতিকভাবে দুঃস্থ, তাই তিনি এই ভাতার যোগ্য হতে পারেন। ২. বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম: তিনি বিধবা হওয়ায় এই ভাতারও যোগ্য হতে পারেন। এই দুটি কার্যক্রমই তাকে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।
মিসেস ফাতেমার মতো প্রবীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমাজের উচিত প্রবীণদের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং তাঁদের অসহায় অবস্থায় পাশে দাঁড়ানো। স্থানীয় কমিউনিটি বা সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁদের জন্য ছোটখাটো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যেমন- কুটির শিল্প বা হস্তশিল্পের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ। এছাড়া, পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম সদস্যদের প্রবীণদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করতে হবে এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে তাঁরা নিজেদেরকে বোঝা মনে না করেন এবং অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার
Aligned to the NCTB national curriculum.