তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র হলো স্থির বিদ্যুতের অস্তিত্ব এবং চার্জের প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র।
ঘর্ষণে স্থির বিদ্যুৎ তৈরির ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন পদার্থকে যখন পরস্পর ঘষা হয়, তখন একটি পদার্থ থেকে ইলেকট্রন অন্য পদার্থে স্থানান্তরিত হয়। যে পদার্থের ইলেকট্রনের প্রতি আসক্তি বেশি, সেটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যে পদার্থ ইলেকট্রন হারায়, সেটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়। এভাবেই ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় বস্তু আধান প্রাপ্ত হয়।
উদ্দীপকে রিমার চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনি এবং চুলের মধ্যে ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের ফলে চুল থেকে ইলেকট্রন চিরুনিতে স্থানান্তরিত হয়, কারণ প্লাস্টিকের (চিরুনি) ইলেকট্রনের প্রতি আসক্তি চুলের চেয়ে বেশি। ইলেকট্রন গ্রহণ করার কারণে চিরুনি ঋণাত্মক চার্জে আহিত হয়। এই ঋণাত্মক চার্জযুক্ত চিরুনিই কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করে।
চিরুনিটির আধানের প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য প্রথমে একটি তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রকে পরিচিত কোনো চার্জ (যেমন, সিল্ক দিয়ে ঘষা কাচ দণ্ড ব্যবহার করে ধনাত্মক চার্জ) দিয়ে আহিত করতে হবে। যদি ধনাত্মক চার্জ দিয়ে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের পাত দুটিকে ফাঁক করে রাখা হয়, এবং এরপর রিমার চিরুনিটি তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের ধাতব চাকতির কাছে আনা হয়, তাহলে: ১. যদি পাত দুটির ফাঁক কমে যায়, তবে বুঝতে হবে চিরুনিটিতে ঋণাত্মক চার্জ রয়েছে, কারণ বিপরীত চার্জ আকর্ষণ করে এবং তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের পাত থেকে ধনাত্মক চার্জ চাকতির দিকে সরে এসে ফাঁক কমাবে। ২. যদি পাত দুটির ফাঁক আরও বেড়ে যায়, তবে বুঝতে হবে চিরুনিটিতে ধনাত্মক চার্জ রয়েছে, কারণ একই চার্জ বিকর্ষণ করে এবং তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের পাতগুলোতে আরও ধনাত্মক চার্জ সরে এসে ফাঁক বাড়াবে। এভাবে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে চিরুনির চার্জের প্রকৃতি নির্ণয় করা সম্ভব।
SSC (Class 9-10) › Physics › Chapter 10: স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) › Topic: তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র (Electroscope)
Aligned to the NCTB national curriculum.