সন্তান প্রসবের পূর্বে, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে শারীরিক কিংবা অন্যান্য কারণে মায়েরা মৃত্যুবরণ করলে তাকে মাতৃমৃত্যু বলা হয়।
শিশুমৃত্যুর উচ্চ হার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। একটি পরিবারে যখন একটি শিশু মারা যায় তখন ঐ পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তির স্বাভাবিক কাজ কর্মে বাধার সৃষ্টি হয়, ফলে পরিবারটিও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুমৃত্যুর হার কমানো পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর দুটি প্রধান কারণ হলো বাল্যবিবাহ এবং পুষ্টির অভাব। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েরা অল্পবয়সে গর্ভধারণ করে, যা তাদের শরীরকে মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত রাখে না এবং নানা জটিলতা সৃষ্টি করে। এছাড়া, গর্ভকালে অবহেলা, অজ্ঞতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রভৃতি কারণে মায়েরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, ফলে তারা মাতৃত্বকালীন নানা জটিলতায় ভোগে এবং মৃত্যুবরণ করে।
মাতৃমৃত্যু সদ্য জন্মগ্রহণকারী শিশুর জীবন ও সামাজিকীকরণকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। মাতৃহারা শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়, কারণ সে মায়ের দুধ পায় না। এর ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে, অনেক ক্ষেত্রে শিশু মৃত্যুবরণও করে। মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে অন্য দুধের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় শিশুর পেটের পীড়া বা অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করে এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য এটি বাড়তি আর্থিক চাপ। এছাড়া, মাতৃহারা শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সমস্যা হয়, কারণ মা হলো শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যাকারী এবং সামাজিক মূল্যবোধ ও রীতিনীতি শেখানোর প্রধান উৎস। মাতৃমৃত্যু পারিবারিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হতে পারে এবং শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ও ফলাফল
Aligned to the NCTB national curriculum.