বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যাতে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত হয়।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও তার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে, যেমন - উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা, সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা, নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন এবং কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বাড়িয়ে ৬ মাস করা।
মিলি শিক্ষাক্ষেত্রে এবং পারিবারিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তার বাবা-মা তার ভাইয়ের পড়ালেখার ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখান এবং মিলিকে বাড়ির কাজে সাহায্য করতে হয়, যা তার পড়ালেখায় মনোযোগে বাধা সৃষ্টি করে। বাবা-মায়ের এই মনোভাব যে 'মেয়েরা পড়ালেখা করে কী করবে, শেষ পর্যন্ত তো অন্যের বাড়িতেই যাবে', এটি সমাজে প্রচলিত সেই ধারণার প্রতিফলন যেখানে কন্যাশিশুকে পুত্রসন্তানের চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত করা হয়।
মিলির মতো মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা ও সচেতনতার ভূমিকা অপরিহার্য। শিক্ষার বিস্তার মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। যখন মেয়েরা শিক্ষিত হয়, তখন তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয় এবং সমাজের প্রতি তাদের অবদান বৃদ্ধি পায়। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করা যায়, যেমন - 'মেয়েরা পড়ালেখা করে কী করবে'। পরিবারগুলোকে বোঝাতে হবে যে মেয়েদের শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা সমাজের উন্নয়নে পুরুষের মতোই অবদান রাখতে পারে। সরকারের উপবৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়ালেখার সুযোগের মতো পদক্ষেপগুলো শিক্ষার প্রসারে সহায়ক, তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার
Aligned to the NCTB national curriculum.