এক স্বাধীন দেশ থেকে অন্য একটি স্বাধীন দেশে চাকরি, বিয়ে, বসবাস এমনকি নাগরিকতা লাভের জন্য গমন করাকে আন্তর্জাতিক স্থানান্তর বলে।
পারিবারিক নৈকট্য লাভের জন্য মানুষ বিদেশে স্থানান্তরিত হয় কারণ পরিবারের কোনো সদস্য যদি ইতিমধ্যেই বিদেশে বসবাস করে, তবে অন্য সদস্যরা তাদের সাথে থাকার জন্য বা একত্রিত হওয়ার জন্য বিদেশে চলে যায়।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের দুটি প্রধান কারণ হলো কর্মক্ষেত্রের অভাব ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া। দেশে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং উচ্চ প্রতিযোগিতার কারণে অনেক মানুষ উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমায়। এছাড়া, অনেকে বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগের সুযোগ, চাকরি ক্ষেত্রে বদলি ও পদোন্নতি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া এবং পেশাজীবী হিসেবে উন্নত সুযোগ সুবিধার জন্য স্থানান্তরিত হয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক স্থানান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা (রেমিট্যান্স) এদেশের কৃষি ও শিল্প, ব্যাংকিং, সেবাখাত, গার্মেন্টস শিল্প ও নানা ধরনের লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং এই উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণে দেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যেমন রেমিট্যান্সনির্ভর ব্যবসা বা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দিয়ে নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি হয়। এতে আমাদের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য বিমোচনেও এটি সহায়ক হয়। সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক স্থানান্তর দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ও ফলাফল
Aligned to the NCTB national curriculum.