বাংলাদেশের সমাজে এখনও অনেক পিতামাতা কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করে।
নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার বলতে নিজের পছন্দ অনুসারে জীবনযাপন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতাকে বোঝায়, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি বাংলাদেশে নারীর শিক্ষা অধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে বৈষম্য এবং কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া নারীর শিক্ষা লাভের সুযোগকে সীমিত করে। এর ফলে তারা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও ভবিষ্যৎ গঠনের স্বাধীনতা খর্ব হয়, যা সংবিধান ও মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের মূলনীতির পরিপন্থী।
এই ধরনের পরিস্থিতি দূরীকরণে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং সরকারি পদক্ষেপ উভয়ই অপরিহার্য। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতামাতাদের বোঝাতে হবে যে কন্যা সন্তানও পুত্র সন্তানের মতো পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম এবং তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া উচিত। সরকারি পদক্ষেপ যেমন উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তি এই বৈষম্য দূর করতে সহায়ক। এছাড়াও, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার ভোগ করতে পারবে এবং নিজেদেরকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে পারবে, যা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার
Aligned to the NCTB national curriculum.