বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বেগম রোকেয়া সমাজের নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন। এর কারণ হলো, দুটি চাকা সমানতালে না চললে গাড়ি যেমন থেমে যাবে, তেমনি সমাজের একটি অংশ (নারী) যদি পিছিয়ে থাকে তবে সমাজ উন্নয়নের চাকাও পিছিয়ে যাবে।
করিম সাহেবের আচরণে সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ তিনি মনে করেন পুত্র বড় হয়ে বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াবে এবং সংসারের হাল ধরবে। অন্যদিকে, কন্যাকে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়া এবং তার পেছনে খরচ করাকে তিনি কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এটি সমাজে প্রচলিত একটি মনোভাব যেখানে কন্যাসন্তানকে বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
করিম সাহেবের মতো মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজের পক্ষ থেকে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো উচিত এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক প্রচারাভিযান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নারীর গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া, সন্তানের পরিচয় নির্ধারণে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করার মতো পদক্ষেপগুলো নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এই ধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা সম্ভব।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.