কৃষি ও সংস্কৃতির আন্তঃসম্পর্ক আলোচনা করা হয় কারণ মানব সমাজের ইতিহাস মানুষের কৃষিকাজ শুরু করার মাধ্যমে এগিয়েছে এবং উৎপাদন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের অর্জনগুলোই ক্রমে মানবগোষ্ঠীর সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য হয়েছে।
কৃষাণি নারী একজন পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী খুঁজে নিয়ে সংসার শুরু করেন এবং তাঁদের ছেলেমেয়ে মিলে পরিবার গড়ে ওঠে। ক্রমশ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিয়ে এবং পরিবার সম্পর্কে কিছু নিয়ম-কানুন-প্রথা তৈরি হয়। এ সময় থেকেই পরিবার সমাজের ক্ষুদ্র একক— এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছিল কারণ তারা শিকার ও ফল আহরণ থেকে কৃষিকাজের দিকে ধাবিত হয়েছিল। গুহায় বসবাসকারী নারীরা ফল খেয়ে বীজ থেকে চারা গজাতে দেখে কৃষির সূচনা করেন। এতে খাদ্যের সংকট কমে যায় এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়, যা তাদের যাযাবর জীবন থেকে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনে পরিবর্তন আনে।
কৃষিকাজ মানব সমাজের বিবর্তনে মৌলিক ভূমিকা রেখেছে। কৃষিকাজ শুরুর আগে মানুষ যাযাবর ছিল এবং শিকার ও ফল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত। কৃষির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, যা পরিবার ও সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। কৃষির পরিধি ও পরিসর বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রম বিভাজন, গ্রাম গঠন এবং পরবর্তীতে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। কৃষির অগ্রগতি মানবিক গুণাবলি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও, কৃষিভিত্তিক শিল্প যেমন বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিযন্ত্র ইত্যাদির বিকাশ ঘটেছে। সুতরাং, কৃষিকাজ মানব সমাজকে আদিম অবস্থা থেকে সভ্যতার দিকে ধাবিত করেছে।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: পরিবার গঠনে কৃষি
Aligned to the NCTB national curriculum.