আদিযুগে মানুষ পশু-পাখি শিকার করে অথবা গাছের ফলমূল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত।
আদি সমাজে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাজপ্রধান নির্বাচিত হতেন। তিনি tradition ও প্রথা অনুযায়ী সমাজের কাজের সমন্বয় সাধন করতেন।
উদ্দীপকের আলোকে গ্রামীণ আদি সমাজে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি ছিল ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এ সমাজের মানুষেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে ফসল বিনষ্ট হওয়া এমন নানা সমস্যা সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। এমনকি গুরুতর পারিবারিক সমস্যাগুলোও সামাজিকভাবে সমাধান করতেন। জীবনকে ক্রমাগত সহজ ও সুন্দর করাই ছিল সবার সমবেত আকাঙ্ক্ষা।
সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকানা স্থাপন ও বংশানুক্রমিক সামন্ততন্ত্র কায়েম হওয়ার ফলে দুটি বৈপ্লবিক সামাজিক পরিবর্তন ঘটেছিল। প্রথমত, কৃষির অগ্রগতির ফলে উৎপাদন যখন সামাজিক চাহিদা ছাড়িয়ে গেল, তখন উদ্বৃত্ত উৎপাদন কেউ কেউ নিজ দখলে নেওয়ার প্রবণতা দেখাতে লাগলেন এবং নানা যুক্তিতে মালিকানা দাবি করলেন। এর ফলে সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকানা স্থাপিত হলো। দ্বিতীয়ত, অধিক চতুর ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা শুধু সামাজিক সম্পদই কুক্ষিগত করলেন না, সম্পদ ও শক্তির জোরে এক সময় ঘোষণা করলেন যে এরপর থেকে আর সমাজপ্রধান নির্বাচিত করার প্রয়োজন নেই, বংশানুক্রমে সমাজপ্রধান হবেন। এর ফলে বংশানুক্রমিক সামন্ততন্ত্র কায়েম হলো, যেখানে সমাজপতি ভূ-পতি হলেন এবং কৃষককূল প্রজা হলো। প্রজারা তাদের উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ খাজনা হিসেবে সামন্ত প্রভু তথা-জোতদার, জমিদার বা রাজাকে দিতে বাধ্য থাকত।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: পরিবার গঠনে কৃষি
Aligned to the NCTB national curriculum.