জনসংখ্যার পরিবর্তনশীল অবস্থাকে জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা বলা হয়।
জ্ঞানের পরিবর্তনের প্রভাব শিক্ষিত লোকের ধ্যান-ধারণার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে তারা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়, ছোটো পরিবারের সুবিধা উপলব্ধি করে এবং বাল্যবিবাহ পরিহার করে, যার ফলস্বরূপ তারা ছোটো পরিবার গঠন করে।
পেশাগত পার্থক্যের কারণে জন্মহারের তারতম্য ঘটে। যেমন- কৃষক, শ্রমিক, জেলে এদের জন্মহার বেশি হয়, কারণ তাদের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব থাকতে পারে এবং তারা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কম আগ্রহী হতে পারে। অন্যদিকে, ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি পেশাজীবী শ্রেণির জন্মহার কম হয়, কারণ তারা সাধারণত শিক্ষিত ও সচেতন হন এবং ছোটো পরিবারের সুবিধা সম্পর্কে অবগত থাকেন।
বিবাহ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির কারণেই জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা লক্ষ্য করা যায় - এই বক্তব্যটি যৌক্তিক। বিবাহের বয়স জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতায় বড় ভূমিকা রাখে। বাল্যবিবাহ বেশি হলে জন্মহার বেশি হয়, যা জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তন করে। ধর্মীয় মূল্যবোধও জন্মহারকে প্রভাবিত করে; অনেক সময় কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস অধিক সন্তান ধারণে উৎসাহিত করে। অন্যদিকে, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যসেবার কারণে মৃত্যুহার, বিশেষ করে শিশু ও মাতৃমৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বৃদ্ধ বয়সী জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পায়। এই বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে জনসংখ্যার জন্মহার, মৃত্যুহার এবং বয়স কাঠামোর পরিবর্তন ঘটিয়ে জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতায় ভূমিকা রাখে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদ
Aligned to the NCTB national curriculum.