পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানী-কে ভরণ-পোষণের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।
একসময় আমাদের দেশে পরিবারগুলো ছিল একান্নবর্তী। সে সময় পরিবারে প্রবীণদের এক ধরনের কর্তৃত্ব বা ভূমিকা ছিল কারণ তারা পরিবারের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হতেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
রহিমার শ্বশুর-শাশুড়ির মনোভাব প্রবীণদের পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। তারা রহিমার বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে রাজি নন, যা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য পারিবারিক আশ্রয় ও সেবাযত্নের অভাব তৈরি করবে। এই ধরনের আচরণ প্রবীণদের মধ্যে অবহেলিত ও অসহায় বোধ তৈরি করে, যা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার জন্ম দেয়।
রহিমা'র বাবা-মায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইন প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে বাধ্য করে। রহিমার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি আপত্তি জানালেও, রহিমার বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তার এবং তার ভাই-বোনদের উপর বর্তায়। এই আইন প্রবীণদের পরিবার থেকে সেবাযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারকে আইনি সুরক্ষা দেয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে রহিমার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির মনোভাব পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও, রহিমার বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা সম্ভব। এটি প্রবীণদের পারিবারিক আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তাদের মানসিক শান্তি প্রদান করে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার
Aligned to the NCTB national curriculum.