একটি মৌল বা যৌগের অণুতে যে যে ধরনের মৌলের পরমাণু থাকে তাদের প্রতীক এবং যে মৌলের পরমাণু যতটি থাকে সেই সকল সংখ্যা দিয়ে প্রকাশিত সংকেতকে আণবিক সংকেত বা রাসায়নিক সংকেত বলে।
অষ্টক নিয়ম বলতে বোঝায়, অণু গঠনকালে কোনো মৌল ইলেকট্রন গ্রহণ, বর্জন অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে তার সর্বশেষ শক্তিস্তরে 8টি করে ইলেকট্রন ধারণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে। হিলিয়াম ছাড়া সকল নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ শক্তিস্তরে 8টি করে ইলেকট্রন বিদ্যমান।
প্রথম যৌগটি (A) আয়নিক বন্ধন দ্বারা গঠিত। কারণ এটি একটি ধাতু এবং একটি অধাতুর মধ্যে গঠিত হয়েছে, যা আয়নিক যৌগের বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও, এটি কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না কিন্তু গলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে, যা আয়নিক যৌগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম। আয়নিক যৌগগুলো গলিত অবস্থায় আয়নে বিয়োজিত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
দ্বিতীয় যৌগটি (B) দুটি অধাতুর মধ্যে গঠিত হয়েছে এবং কঠিন বা গলিত কোনো অবস্থাতেই বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, যা সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য। তাই এটি সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত। অণুতে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়। অক্সিজেন পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে 6টি ইলেকট্রন থাকে এবং স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য 2টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। দুটি অক্সিজেন পরমাণু কাছাকাছি এলে উভয় পরমাণুই 2টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো অষ্টক বিন্যাস অর্জন করে এবং সমযোজী বন্ধন গঠন করে। ঠিক একইভাবে, দ্বিতীয় যৌগটি (B) এর বন্ধন গঠনের প্রক্রিয়াও ইলেকট্রন শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে অধাতব পরমাণুদ্বয় তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনগুলো সরবরাহ করে এক বা একাধিক জোড়া ইলেকট্রন তৈরি করে এবং এই ইলেকট্রন জোড়াগুলো উভয়ে শেয়ারের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা অর্জন করে। এই ইলেকট্রন শেয়ারিংয়ের মাধ্যমেই সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়।
SSC (Class 9-10) › Chemistry › Chapter 5: রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond) › Topic: রাসায়নিক বন্ধন পরিচিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.