নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে কারণ নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এর মাধ্যমে নারীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়।
রেহানা বেগম ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্যাতন থেকে মুক্ত থাকার অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন, যা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা লঙ্ঘন করে। এছাড়াও, তিনি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা তার অধিকারের পরিপন্থী।
রেহানা বেগমের মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, আমাদের সমাজে এখনও অনেক নারী বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হন। নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন এবং সমাজ তাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে প্রস্তুত নয়। পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া, কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া, এবং নারীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা সমাজের ভুল দৃষ্টিভঙ্গিরই ফল। এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে আইন প্রণয়ন বা সরকারি কার্যক্রম শতভাগ সফল হবে না। শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা গেলে রেহানা বেগমের মতো নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং বৈষম্যমুক্ত জীবনযাপন করতে পারবেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.