বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
রহিমা বেগম একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান কাজ করলেও মজুরি পান কম। তিনি যখন এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করেন, তখন তাকে বলা হয় যে তার কাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত কারণ একজন নারীর এত কথা বলা উচিত নয়।
নাসিমা বেগম একজন গ্রামের গৃহবধূ। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। তিনি প্রতিবাদ করতে ভয় পান, কারণ তার কোনো অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নেই এবং সমাজের চোখে এটি পারিবারিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি চান এমন একটি সমাজ যেখানে নারীরা নির্ভয়ে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারবে এবং কেউ তাদের উপর নির্যাতন করবে না।
শহরের রিনা বেগম (৩৫) একজন শিক্ষিত নারী। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি তার ছোট বোনকে উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহিত করেন, যদিও তাদের বাবা-মা মনে করেন মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়া উচিত।
৭০ বছর বয়সী জনাব আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি চান তার অবসর জীবনে কিছু সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন তার এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেন না। তিনি নিজেকে অযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করেছেন।
জনাব আখতার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ৬৫ বছর বয়সেও বেশ কর্মঠ এবং সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবার মনে করে, এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং তাকে কোনো কাজে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করে। জনাব আখতার মনে করেন, প্রবীণদের সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
সালমা (২৫) একজন শিক্ষিত নারী। সে তার এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কিন্তু তার এলাকার পুরুষ সদস্যরা মনে করে, 'নারীর জন্য ঘরের কাজই যথেষ্ট, বাইরে কাজ করার দরকার নেই।' তারা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে।
জনাব রহিম সরকারি চাকরি থেকে ৫৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তার সঞ্চিত অর্থ ও সম্পত্তির বেশিরভাগই ছেলেমেয়েদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। ফলে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন এবং নিজের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারেন না। তার ছেলেমেয়েরা কর্মজীবী হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করার বা তার সাথে গল্প করার সময় পায় না, যার ফলে তিনি নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
মিজান সাহেব (৬০) সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি আশা করেছিলেন অবসর গ্রহণের পর পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন এবং সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তাকে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। তিনি নিজেকে অকেজো এবং অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করেছেন।
ফারজানা বেগম একজন উচ্চশিক্ষিত নারী। তিনি একটি সরকারি দপ্তরে কাজ করেন। তার কর্মস্থলে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তিনি তার মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সকল নারীরই সরকারি চাকরি লাভের এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার থাকা উচিত।
রহিমা বেগম (৮০) একজন বয়স্ক মহিলা। তিনি তার পরিবারের সাথে বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা মনে করে একটি বৃদ্ধ নিবাসে তার জন্য ভালো হবে। রহিমা বেগম নিজের পছন্দ ও খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা অনুসারে নিরাপদ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশে বাস করার অধিকারের কথা বলেন।
আশি বছর বয়সী মমতাজ বেগম তার গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন। তার ছেলেমেয়েরা শহরে থাকে এবং কর্মব্যস্ততার কারণে খুব কমই তার খোঁজখবর নিতে পারে। মমতাজ বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বা তার ঔষধ কেনার মতো কেউ নেই। তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন এবং তার মনে হয় তিনি সমাজের বোঝা হয়ে গেছেন।
জনাব আসিফ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবনের শেষে কোনো সঞ্চয় করতে পারেননি। এখন তারা তাদের সন্তানদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আসিফ এবং তার স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী এবং তাদের পক্ষে বাবা-মায়ের সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফারজানা বেগম (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন জীবন পাঠাগারে বই পড়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কাটাতে চান। কিন্তু তার শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি একা একা বাইরে যেতে পারেন না এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে সময় দিতে পারে না।
একটি গ্রামে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ফাতেমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ফাতেমা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার হতে চায়, কিন্তু তার বাবা-মা মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার দরকার নেই এবং কম বয়সে বিয়ে দিলে তাদের দুশ্চিন্তা কমে যাবে।
রিমা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামীও কর্মজীবী। তাদের একটি ছোট সন্তান আছে। রিমার শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে থাকেন। তারা চান রিমা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের দেখাশোনা করে। কিন্তু রিমা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কর্মজীবনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
মিজ ফাহমিদা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে। তার সহকর্মীরা তাকে দেখে হাসাহাসি করে এবং মন্তব্য করে যে, 'নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কেবল বিশ্রাম করে, কাজ করতে পারে না।'
রেবেকা বেগম (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে চান এবং একটি সংগঠন গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন তার অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।
মিিসেস ফাতেমা একজন কর্মজীবী নারী। তিনি তার কর্মস্থলে পুরুষের সমান কাজ করলেও বেতন পান কম। কর্মক্ষেত্রে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তাকে প্রায়শই বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হতে হয়। তিনি মনে করেন, সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া দরকার এবং নারীদেরও পুরুষের সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত।
এক গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের একটি পদ খালি হয়েছে। গ্রামের কিছু লোক মনে করে, এই পদে একজন পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত, কারণ নারীরা গৃহস্থালি কাজের জন্য বেশি উপযুক্ত।
জনাব করিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি অবসর গ্রহণের পর থেকে তার সন্তানদের সাথে বসবাস করছেন। তার সন্তানরা তাকে সম্মান করে এবং তার সব প্রয়োজন মেটায়। তবে, করিম সাহেব মনে করেন, তার বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত সংস্কৃতি নির্বিশেষে সুন্দর আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নিগৃহীতা হওয়ার কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুবই অসহায়। তার কোনো সন্তান নেই এবং তার দেখাশোনা করার মতোও কেউ নেই। তিনি এখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছুটা সহায়তা আশা করেন।
শফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ৫৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি তার অবসর ভাতা নিয়মিত পাচ্ছেন। তার ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠিত এবং তার দেখাশোনা করে। তবে শফিক সাহেব মনে করেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়স আরও বাড়ানো উচিত।
শহরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রহিমা (৩৪) একজন গৃহকর্মী। তার স্বামী রিকশাচালক। তাদের তিন সন্তান। রহিমা ও তার স্বামী দুজনেই পরিশ্রম করেন, কিন্তু তাদের আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। রহিমার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই তাকে কটূক্তি করে এবং তার মতামতের কোনো মূল্য দেয় না।
মিসেস রোকসানা একজন শিক্ষিত নারী। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার সহকর্মী একজন পুরুষ একই পদে চাকরি করলেও, রোকসানা মনে করেন যে তিনি পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তার স্বামী তাকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে গৃহিণী হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
ফারজানা (৩৫) একজন শিক্ষিত গৃহিণী। তিনি তার সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে বাবার নামের পাশাপাশি নিজের নামও যুক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক রফিকের দুই সন্তান, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। রফিক মনে করেন, ছেলে বড় হয়ে তাকে উপার্জন করে খাওয়াবে এবং সংসারের হাল ধরবে। অন্যদিকে, মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে তাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এই মনোভাবের কারণে তিনি ছেলের লেখাপড়ার ব্যাপারে যতটা আগ্রহ দেখান, মেয়ের বেলায় তা দেখান না।
জনাব কামাল একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত অবসর ভাতা পান। অন্যদিকে তার স্ত্রী মিসেস কামাল গৃহিণী এবং কোনো আয় করেন না। তাদের ছেলে-মেয়ে উভয়েই কর্মজীবী। সম্প্রতি সরকার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে।
আয়েশা (২০) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার স্বামী বেকার এবং প্রায়ই তাকে মারধর করে। আয়েশা তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয় এবং মনে করে এটি তার নিয়তি। তার কর্মস্থলেও তাকে পুরুষের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়।
শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মিজ সায়মা। তিনি সম্প্রতি মা হয়েছেন এবং তার কর্মস্থল থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছেন। তার পুরুষ সহকর্মীরা তার ছুটির সময়কাল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে এবং তার কাজে ফিরে আসা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
ফাতেমা বেগম (৬৫) একজন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা প্রবীণ। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ভালোবাসেন। কিন্তু তার পরিবার এবং সমাজের অনেকেই তার মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং তাকে ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। ফলে তিনি নিজেকে কোণঠাসা ও অবহেলিত মনে করেন।
সত্তর বছর বয়সী মিসেস রোকসানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার সঞ্চিত অর্থ নেই এবং সন্তানরাও তাকে ভরণ-পোষণ দিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি মনে করেন তার জীবন এখন কেবল অন্যের উপর নির্ভরশীল।
রেজাউল সাহেব (৬২) একজন কৃষক। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সব সম্পত্তি হারিয়েছেন। এখন তিনি অসুস্থ এবং কাজ করতে পারেন না। তার ছেলেমেয়েরা তাকে দেখাশোনা করতে রাজি নয়।
শিক্ষিকা ফরিদা বেগম ৬৫ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি তার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত হতে চাইলেন, যা সমাজের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা তাকে নিষেধ করে এবং মনে করে তার এখন শুধু বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
করিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি একটি বৃদ্ধ নিবাসে বসবাস করেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, চিত্তবিনোদন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ পান।
৭৫ বছর বয়সী জনাব হাসান একজন দরিদ্র কৃষক। তার জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে এবং তার ছেলেমেয়েরা তাকে ভরণ-পোষণ দিতে পারছে না। তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন কিন্তু ঔষধ কেনার সামর্থ্য নেই। তিনি মনে করেন তিনি সমাজের বোঝা হয়ে গেছেন।
মিজান সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি এখন অবসর ভাতা পান। কিন্তু তার প্রতিবেশী রফিক সাহেব (৬৫) একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। তিনি এখন আর কাজ করতে পারেন না এবং তার সন্তানদেরও তাকে ভরণ-পোষণ করার সামর্থ্য নেই। রফিক সাহেব তার নিজের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারেন না এবং প্রায়শই নিজেকে অসহায় ও অবহেলিত মনে করেন।
বৃদ্ধা জোবেদা বেগম ৭০ বছর বয়সেও তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অবহেলিত। তার ছেলেমেয়েরা মনে করে তিনি এখন পরিবারের বোঝা। তারা তাকে ঠিকমতো খাবার দেয় না এবং তার অসুস্থতার সময়ও কোনো যত্ন নেয় না। জোবেদা বেগম খুব অসহায় বোধ করেন।
রহিমা বেগম (৬৭) তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাকে দেখাশোনা করার সময় পায় না। তিনি শারীরিক দুর্বলতা এবং নানা ধরনের রোগব্যাধিতে ভুগছেন, কিন্তু ঔষধ কেনার সামর্থ্য তার নেই।
রহিমা খাতুন একজন বিধবা মহিলা। তার বয়স ৬৫ বছর। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই যে তাকে দেখাশোনা করবে। তিনি একসময় খুব সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু এখন বার্ধক্যের কারণে শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই।
গ্রামের সালমা বেগম (৩২) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করলেও তিনি তাদের চেয়ে কম মজুরি পান। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তার সুপারভাইজার তাকে কাজ হারানোর হুমকি দেন। সালমার মনে হয়, সমাজে নারীর অবস্থান এখনও অনেক পিছিয়ে।
গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া রেখা বেগম ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার সুযোগ পাননি। অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায় এবং তিনি গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার স্বামী একজন কৃষক এবং তাদের আয় খুব কম। রেখা বেগম মনে করেন, যদি তিনি পড়াশোনার সুযোগ পেতেন, তবে তিনিও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতেন এবং তার জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো।
রফিক সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঞ্চিত অর্থ ছেলেমেয়েদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং তাঁকে প্রায়ই অর্থকষ্টে ভুগতে হয়।
মিসেস সালমা একজন স্বাবলম্বী নারী। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন এবং তার পরিবার ও সমাজের প্রতিও দায়িত্বশীল। তিনি মনে করেন, নারীরা যদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়, তবে তারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এখনও অনেক পরিবার কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করে এবং তাদের পড়াশোনার সুযোগ দেয় না।
রাশেদা বেগম (৪০) সরকারি চাকরি করেন। তার দুটি সন্তান। সম্প্রতি তার তৃতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সরকারি পদক্ষেপ নারীর কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে এবং সন্তান লালন-পালনে অত্যন্ত সহায়ক।
মিতু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা তাকে পড়াশোনার ব্যাপারে খুব উৎসাহিত করেন এবং তার বড় ভাইয়ের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দেন। কিন্তু তাদের গ্রামের অনেক মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মিতু মনে করে, সকল মেয়েরই শিক্ষার অধিকার আছে এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকা উচিত।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক করিম মিয়া (৬৮) তার সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ সন্তানদের লেখাপড়া ও বিয়ের পেছনে খরচ করে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এখন বার্ধক্যে এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং কাজ করার সামর্থ্য নেই। তার ছেলেমেয়েরাও দরিদ্র হওয়ায় তার ভরণ-পোষণ করতে পারছে না।
মিসেস শাহানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী জীবনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই এবং তিনি তার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। ঔষধপত্র কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার নেই। গ্রামের কিছু যুবক তাকে বাংলাদেশ মহিলা স্বাস্থ্য সংঘের কথা জানায় এবং সেখানে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করে।
রাজু তার বাবা-মার ভরণ-পোষণ করেন না। তার বাবা (৭৫) এবং মা (৭২) দুজনেই অসুস্থ এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল। রাজু মনে করে, বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে দেখাশোনা করা তার দায়িত্ব নয়।
মিতু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা তাকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং সে উপবৃত্তিও পায়। তবে তার ছোট ভাই যখন ক্রিকেট ব্যাট ও বল পায়, তখন মিতু পুতুল ও হাঁড়ি-পাতিল পায়। মিতু মনে করে, তার বাবা-মা এখনও ছেলে-মেয়ের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
শাহিন সাহেব (৬২) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি অবসরের পরও গবেষণা ও লেখালেখির কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। কিন্তু তার পরিবার তাকে বিশ্রাম নিতে এবং এসব কাজ ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে।
মিসেস ফাতেমা একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি তার আত্মীয়-স্বজনকে এ বিষয়ে জানালেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। তিনি মনে করেন, তিনি একজন নারী হওয়ায় এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং তার কোনো অধিকার নেই।
রিনা (২৮) এবং তার স্বামী একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা তাদের সাথে থাকেন না। রিনা প্রায়শই দেখতে পান যে তার বাবা-মা নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন, কারণ তাদের সাথে গল্প করার বা তাদের সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই।
মিসেস রিনা একজন সফল প্রকৌশলী। তিনি তার কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের মতোই দক্ষতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় তাকে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে অবজ্ঞা ও কটাক্ষের শিকার হতে হয়। রিনা মনে করেন, সমাজে এখনও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি।
মিফতাহুল জান্নাত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তার এলাকার অনেকেই মনে করে, মেয়েদের প্রকৌশলী হওয়ার দরকার নেই, বরং তাদের শিক্ষক বা ডাক্তার হওয়া উচিত। তার সহপাঠী ছেলেরাও তাকে প্রায়ই কটূক্তি করে।
শহরের একটি বস্তিতে বসবাস করেন ষাটোর্ধ্ব আমেনা বেগম। তিনি একসময় গার্মেন্টসে কাজ করতেন, কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। তার কোনো সঞ্চয় নেই। তার ছেলে-মেয়ে নেই, একমাত্র ভাইও অনেক দূরে থাকেন এবং তেমন খোঁজখবর নেন না। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান না।
মিসেস রিনা একজন পোশাক কারখানার কর্মী। তিনি তার কাজের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কম মজুরি পান। যখন তিনি এর প্রতিবাদ করেন, তখন তাকে বলা হয় যে নারীরা পুরুষের সমান কাজ করতে পারে না।
সত্তরোর্ধ্ব মজিদ সাহেব তার ছোট ছেলের সাথে বসবাস করেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রায়ই তাকে সংসারের বোঝা মনে করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। মজিদ সাহেব প্রায়ই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
হাফিজা বেগম (৭০) তার গ্রামের বাড়িতে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন। তার দুই ছেলে শহরে থাকে এবং তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে মায়ের দেখাশোনা করার সময় পায় না। হাফিজা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পান। গ্রামের প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি প্রায়ই অনুভব করেন যে পরিবারে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তিনি সমাজের বোঝা হয়ে উঠেছেন।
সত্তর বছর বয়সী রফিক সাহেব তার গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে যাওয়ায় পরিবারটি ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হয়েছে। রফিক সাহেব এখন তার বাড়িতে একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
৬০ বছর বয়সী মিসেস ফাহিমা অবসর গ্রহণের পর তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কর্মজীবী। ফলে ফাহিমাকে তাদের শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বয়সে এসব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়শই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না।