বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · Class 7 · Chapter 9
রিমা একজন কর্মজীবী নারী। তার স্বামীও কর্মজীবী। তাদের একটি ছোট সন্তান আছে। রিমার শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে থাকেন। তারা চান রিমা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সন্তানের দেখাশোনা করে। কিন্তু রিমা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কর্মজীবনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
মিঃ আলম (৮০) একজন কৃষক। তিনি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারকে ভরণ-পোষণ করেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যের কারণে কাজ করতে পারেন না এবং তার কোনো সঞ্চয়ও নেই। তার ছেলেরা তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত নয় এবং তিনি প্রায়শই অনাহারে থাকেন।
সত্তরোর্ধ্ব মজিদ সাহেব তার ছোট ছেলের সাথে বসবাস করেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রায়ই তাকে সংসারের বোঝা মনে করে এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। মজিদ সাহেব প্রায়ই নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করেন।
জনাব আহমেদ (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিনি তার অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। তার এক ছেলে দেশের বাইরে থাকে, আরেক ছেলে শহরে থাকে। তার স্ত্রী মারা গেছেন। ফলে তিনি একাকীত্বে ভোগেন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ নেই।
রহিমা খাতুন একজন বিধবা মহিলা। তার বয়স ৬৫ বছর। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই যে তাকে দেখাশোনা করবে। তিনি একসময় খুব সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু এখন বার্ধক্যের কারণে শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই।
জনাব আসিফ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে একটি ছোট পরিবারে বাস করেন। তার বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবনের শেষে কোনো সঞ্চয় করতে পারেননি। এখন তারা তাদের সন্তানদের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আসিফ এবং তার স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী এবং তাদের পক্ষে বাবা-মায়ের সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
করিম সাহেব তার ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই স্কুলে পাঠান। তিনি মনে করেন তার ছেলে বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে এবং মেয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে। তাই তিনি ছেলের পড়ালেখার পেছনে বেশি খরচ করেন এবং মেয়েকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে রাজি নন।
ফারজানা একজন গৃহিণী। সে তার পরিবারের সব কাজ একা করে। তার স্বামী একজন কর্মজীবী। ফারজানা মনে করে, তার কাজকে সমাজের মানুষ গুরুত্ব দেয় না এবং তাকে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, দেশের উন্নয়নে তার কোনো ভূমিকা নেই।
সত্তর বছর বয়সী মিসেস রোকসানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার সঞ্চিত অর্থ নেই এবং সন্তানরাও তাকে ভরণ-পোষণ দিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি মনে করেন তার জীবন এখন কেবল অন্যের উপর নির্ভরশীল।
সালমা (২৫) একজন শিক্ষিত নারী। সে তার এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কিন্তু তার এলাকার পুরুষ সদস্যরা মনে করে, 'নারীর জন্য ঘরের কাজই যথেষ্ট, বাইরে কাজ করার দরকার নেই।' তারা তাকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে।
রেবেকা বেগম (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন সময়ে বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে চান এবং একটি সংগঠন গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন তার অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।
রিনা বেগম (৭২) একজন বৃদ্ধা মহিলা। তার ছেলেমেয়েরা তাকে মাঝে মাঝে খাবার ও কাপড় দেয়, কিন্তু তার সাথে গল্পগুজব করার বা তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো সময় তাদের নেই। রিনা বেগম প্রায়ই একাকীত্বে ভোগেন এবং মনে করেন তিনি পরিবারের বোঝা।
গ্রামের দরিদ্র কৃষক রফিক মিয়া (৬৫) তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি বয়সের কারণে আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। তার কোনো সঞ্চিত অর্থ নেই এবং ছেলেমেয়েরা তার ভরণ-পোষণ করতে পারছে না। ফলে তাদের পরিবারে প্রায়ই খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এবং রফিক মিয়া অসুস্থ হলে ঔষধ কেনার সামর্থ্য তাদের থাকে না।
আকলিমা বেগম (৭২) একজন গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার কোনো সন্তান নেই। তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিরোধ চলছে। তিনি মনে করেন তার সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মিজ সায়মা। তিনি সম্প্রতি মা হয়েছেন এবং তার কর্মস্থল থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছেন। তার পুরুষ সহকর্মীরা তার ছুটির সময়কাল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে এবং তার কাজে ফিরে আসা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
মিজ ফাহমিদা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে। তার সহকর্মীরা তাকে দেখে হাসাহাসি করে এবং মন্তব্য করে যে, 'নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কেবল বিশ্রাম করে, কাজ করতে পারে না।'
ফারুক সাহেব সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা নিজেদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। ফারুক সাহেব এখন বেশিরভাগ সময় একা থাকেন এবং নিজের পছন্দের কাজগুলো করার সুযোগ পান না। তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তিনি নিজেও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
জনাব কামাল একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত অবসর ভাতা পান। অন্যদিকে তার স্ত্রী মিসেস কামাল গৃহিণী এবং কোনো আয় করেন না। তাদের ছেলে-মেয়ে উভয়েই কর্মজীবী। সম্প্রতি সরকার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করেছে।
রাহেলা বেগম (৭২) একজন গ্রামের মহিলা। তিনি তার নাতীদের সাথে গল্প করতে পছন্দ করেন, কিন্তু তারা এখন স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার ছেলে-মেয়েরা শহরে থাকে এবং মাসে একবার তাকে দেখতে আসে। রাহেলা বেগম অনুভব করেন যে, তার মতামতকে পরিবারে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন।
মিসেস রত্না (৫৮) একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনি দ্রুতই অবসর গ্রহণ করবেন। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার কোনো সন্তান নেই। তার হাতে তেমন সঞ্চয়ও নেই। তিনি চিন্তিত যে অবসরের পর তার জীবনযাপন কীভাবে চলবে।
আয়েশা বেগম একজন গ্রাম্য মহিলা। তার বয়স ৬২ বছর। তার স্বামী নেই এবং তিনি খুব দরিদ্র। তিনি তার সন্তানদের উপর নির্ভরশীল হতে চান না এবং নিজের মতো করে চলতে চান।
মিস্টার কামাল একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনি অবসর গ্রহণের পর তার সঞ্চিত অর্থ ও পেনশন দিয়ে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মনে করেন, অবসর গ্রহণের পরেও মানুষের কাজ করার অথবা অন্য কোনোভাবে আয়-উপার্জন করার অধিকার থাকা উচিত।
সত্তর বছর বয়সী রফিক সাহেব তার গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে যাওয়ায় পরিবারটি ভেঙে ছোট ছোট পরিবারে পরিণত হয়েছে। রফিক সাহেব এখন তার বাড়িতে একা থাকেন এবং নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। তার দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই।
মিসেস ফাতেমা একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি তার আত্মীয়-স্বজনকে এ বিষয়ে জানালেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। তিনি মনে করেন, তিনি একজন নারী হওয়ায় এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং তার কোনো অধিকার নেই।
মিসেস রোকসানা একজন গৃহিণী। তিনি পরিবারে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ পান না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার কোনো ভূমিকা থাকে না। তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা মনে করেন, নারীদের কাজ শুধু গৃহস্থালি সামলানো। রোকসানা মনে করেন, সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষিকা ফরিদা বেগম তার গ্রামের মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি করছেন। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তার মতে, নারী অধিকার সংরক্ষণ ও সর্বক্ষেত্রে তাকে অগ্রগামী হওয়ার সুযোগ দেওয়া একান্ত অপরিহার্য।
সাবিনা বেগম একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তার কর্মস্থলে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভে নারী-পুরুষের অধিকার সমান—এই নীতিতে বিশ্বাসী। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় তার এক সহকর্মী তাকে জানালেন যে, তার ছুটির সময় ৬ মাস করা হয়েছে। সাবিনা বেগম এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।
মিতা বেগম একজন কর্মজীবী নারী। তার কর্মস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা হয়েছে, যা তাকে সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করছে। তবে তার কর্মস্থলে এখনও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মজুরি কম দেওয়া হয়। মিতা মনে করেন, নারীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর না হলে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
৬০ বছর বয়সী মিসেস ফাহিমা অবসর গ্রহণের পর তার সন্তানদের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়ই কর্মজীবী। ফলে ফাহিমাকে তাদের শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে পৌঁছানো এবং বাজারঘাটের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বয়সে এসব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়শই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না।
সখিনা বেগম (৬০) তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একা বসবাস করেন। তার কোনো সন্তান নেই এবং তার আত্মীয়-স্বজনও তার খোঁজখবর নেয় না। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং প্রায়ই মনে করেন তার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।
রহিমা বেগম (৬২) একজন বিধবা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একা বসবাস করেন। তার কোনো আয়-রোজগারের সুযোগ নেই এবং তিনি খুবই দরিদ্র। তিনি সরকারি কোনো ভাতা পান না।
ফাতেমা বেগম (৬৫) একজন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা প্রবীণ। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ভালোবাসেন। কিন্তু তার পরিবার এবং সমাজের অনেকেই তার মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং তাকে ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। ফলে তিনি নিজেকে কোণঠাসা ও অবহেলিত মনে করেন।
ফারজানা বেগম (৭০) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তিনি তার অবসরকালীন জীবন পাঠাগারে বই পড়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কাটাতে চান। কিন্তু তার শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি একা একা বাইরে যেতে পারেন না এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে সময় দিতে পারে না।
বৃদ্ধা রহিমা বেগম তার একমাত্র ছেলের সাথে থাকেন। তার ছেলে ও ছেলের বউ উভয়েই কর্মজীবী। রহিমা বেগমকে তাদের ছোট শিশুকে দেখাশোনা করতে হয়, বাজারঘাট করা ও গৃহস্থালি কাজের দায়িত্বও তার উপর পড়ে। বৃদ্ধ বয়সে এই সব কাজ করা তার পক্ষে কঠিন হয় এবং তিনি নিজেকে পরিবারের বোঝা মনে করেন।
একটি গ্রামে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ফাতেমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ফাতেমা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার হতে চায়, কিন্তু তার বাবা-মা মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার দরকার নেই এবং কম বয়সে বিয়ে দিলে তাদের দুশ্চিন্তা কমে যাবে।
সাবিহা (১৪) একজন মেধাবী ছাত্রী। তার বাবা-মা তাকে পড়ালেখায় উৎসাহিত করেন। কিন্তু তার গ্রামের অনেক মেয়েদেরকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। সাবিহা মনে করে এই বৈষম্য দূর হওয়া উচিত।
রেহানা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। তিনি তার স্বামীর এই আচরণের প্রতিবাদ করতে পারেন না, কারণ তিনি মনে করেন তার কোনো অধিকার নেই এবং তিনি স্বামীর উপর নির্ভরশীল। তার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পেলেও রেহানা বেগম নিজে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রহিমা বেগম একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান কাজ করলেও মজুরি পান কম। তিনি যখন এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করেন, তখন তাকে বলা হয় যে তার কাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত কারণ একজন নারীর এত কথা বলা উচিত নয়।
রিমা (২০) একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। সে জানে, আইনের চোখে নারী-পুরুষ সমান এবং সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। সে বিশ্বাস করে, নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত হবে।
ফাতেমা বেগম (৩৫) একজন পোশাক শ্রমিক। তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে প্রায়শই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি জানেন না কোথায় গেলে তিনি সাহায্য পাবেন এবং তার অধিকার সম্পর্কেও তেমন সচেতন নন।
রহিমা বেগম (৬৭) তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাকে দেখাশোনা করার সময় পায় না। তিনি শারীরিক দুর্বলতা এবং নানা ধরনের রোগব্যাধিতে ভুগছেন, কিন্তু ঔষধ কেনার সামর্থ্য তার নেই।
রিনা বেগম (৫০) একজন গৃহিণী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের সব কাজ করেন। তার স্বামী প্রায়শই তাকে ঘরের কাজের জন্য ছোটখাটো বিষয়ে গালমন্দ করেন। তিনি মনে করেন, একজন নারী হিসেবে তার অধিকারগুলো নিশ্চিত হচ্ছে না।
মিতা (২০) একজন কারখানার শ্রমিক। সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার মালিক তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেয়। মিতা মনে করে তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে এবং তার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
মিতা একটি গ্রামে বাস করে। তার মা গৃহিণী এবং বাবা দিনমজুর। মিতা ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা-মা তাকে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করাতে রাজি নন। তারা মনে করেন, মেয়ের পড়াশোনার পেছনে বেশি খরচ করা অপচয় এবং অল্প বয়সে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়াই ভালো।
শিক্ষিকা রুবিনা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সভা-সমিতি ও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে এবং তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
রফিক সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঞ্চিত অর্থ ছেলেমেয়েদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং তাঁকে প্রায়ই অর্থকষ্টে ভুগতে হয়।
রফিক সাহেব সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকায় তাকে সময় দিতে পারে না। রফিক সাহেব একাকীত্বে ভোগেন এবং মনে করেন তিনি পরিবারের বোঝা। তার মতামতকে কেউ গুরুত্ব দেয় না এবং তার পাশে বসে কথা বলারও যেন কারো সময় নেই।
জনাব করিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি অবসর গ্রহণের পর থেকে তার সন্তানদের সাথে বসবাস করছেন। তার সন্তানরা তাকে সম্মান করে এবং তার সব প্রয়োজন মেটায়। তবে, করিম সাহেব মনে করেন, তার বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম ও জাতিগত সংস্কৃতি নির্বিশেষে সুন্দর আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
রফিক সাহেব তার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে দেখলেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা একাকী থাকেন। তার ভাই-বোনেরা সবাই শহরে থাকে এবং কেউই তাদের বাবা-মাকে সময় দিতে পারে না। রফিক সাহেব দেখলেন তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতায় ভুগছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবারও অভাব রয়েছে।
জনাব আলমের বয়স ৮০ বছর। তিনি একজন দরিদ্র কৃষক। তার কোনো সঞ্চয় নেই এবং তিনি তার সন্তানদের উপর নির্ভরশীল। তার সন্তানরাও দরিদ্র হওয়ায় তার ভরণ-পোষণ করতে প্রায়শই হিমশিম খায়। জনাব আলম প্রায়শই অসুস্থ থাকেন কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না।
আয়েশা বেগম (৭৫) একজন বিধবা মহিলা। তার স্বামী নিগৃহীতা হওয়ার কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে খুবই অসহায়। তার কোনো সন্তান নেই এবং তার দেখাশোনা করার মতোও কেউ নেই। তিনি এখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছুটা সহায়তা আশা করেন।
মিসেস শাহানা তার স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী জীবনযাপন করছেন। তার কোনো সন্তান নেই এবং তিনি তার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। ঔষধপত্র কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার নেই। গ্রামের কিছু যুবক তাকে বাংলাদেশ মহিলা স্বাস্থ্য সংঘের কথা জানায় এবং সেখানে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করে।
রাজু তার বাবা-মার ভরণ-পোষণ করেন না। তার বাবা (৭৫) এবং মা (৭২) দুজনেই অসুস্থ এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল। রাজু মনে করে, বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে দেখাশোনা করা তার দায়িত্ব নয়।
শফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ৫৯ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি তার অবসর ভাতা নিয়মিত পাচ্ছেন। তার ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠিত এবং তার দেখাশোনা করে। তবে শফিক সাহেব মনে করেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়স আরও বাড়ানো উচিত।
রহিমা বেগম (৮০) একজন বয়স্ক মহিলা। তিনি তার পরিবারের সাথে বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু তার ছেলেমেয়েরা মনে করে একটি বৃদ্ধ নিবাসে তার জন্য ভালো হবে। রহিমা বেগম নিজের পছন্দ ও খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা অনুসারে নিরাপদ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশে বাস করার অধিকারের কথা বলেন।
সেলিনা বেগম (৬৫) একজন গৃহিণী। তার স্বামী মারা গেছেন এবং তার এক ছেলে বিদেশে থাকে। তার মেয়ে বিবাহিত এবং শ্বশুরবাড়িতে থাকে। সেলিনা বেগম প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তার দেখাশোনা করার কেউ নেই। তিনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন এবং প্রায়ই বিষণ্ণ থাকেন।
রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অবসরের পর তিনি নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন। তার স্ত্রীও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং তিনি প্রতি মাসে পেনশন পান। তাদের দুই ছেলে-মেয়েই উচ্চশিক্ষিত এবং ভালো চাকরি করেন। তারা সবাই মিলে একটি সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।
জনাব আসলাম তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে শহরে চাকরি করেন। তিনি মাসে একবার তাদের দেখতে যান এবং কিছু টাকা পাঠান। তার বাবা-মা নিঃসঙ্গতায় ভোগেন এবং তাদের দেখাশোনা বা অসুখ-বিসুখে সেবাযত্নের অভাব অনুভব করেন।
জনাব আখতার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ৬৫ বছর বয়সেও বেশ কর্মঠ এবং সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবার মনে করে, এই বয়সে তার বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং তাকে কোনো কাজে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করে। জনাব আখতার মনে করেন, প্রবীণদের সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত।
মিফতাহুল জান্নাত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তার এলাকার অনেকেই মনে করে, মেয়েদের প্রকৌশলী হওয়ার দরকার নেই, বরং তাদের শিক্ষক বা ডাক্তার হওয়া উচিত। তার সহপাঠী ছেলেরাও তাকে প্রায়ই কটূক্তি করে।