সেচের পানি মাটির স্তর ভেদ করে সোজাসুজি নিচের দিকে চলে যাওয়াকে পানির অনুস্রবণ বলা হয়।
সেচের পানির বাষ্পীভবন রোধ করা কঠিন কারণ সূর্যের তাপে প্রতিনিয়ত ফসলের জমির সেচের পানি বাষ্পীভূত হচ্ছে, যা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং এর উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা কঠিন।
করিম সাহেবের জমিতে সেচের পানির অপচয় রোধ করতে তিনি পানির অনুস্রবণ ও চুয়ানো রোধের ব্যবস্থা নিতে পারেন। অনুস্রবণ রোধের জন্য সেচের নালায় বা জমিতে শক্ত স্তর সৃষ্টি করতে হবে। চুয়ানো রোধের জন্য শক্ত মাটি দ্বারা ক্ষেতের আইল ও নালা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন পানি চুইয়ে না যায় এবং ইঁদুরের উৎপাত বন্ধ করতে হবে যাতে ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে পানি অন্যত্র চলে না যায়।
সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য করিম সাহেব অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। তিনি পরিমাণমতো ও সময়মতো পানি সেচ দিতে পারেন, যাতে ফসল নিজ প্রয়োজনে পানি গ্রহণ করতে পারে। জমির চারদিকে ভালোভাবে আইল বেঁধে এবং সেচ নালা ভালোভাবে মেরামত করে বা পাকা সেচ নালা তৈরি করে সেচ দিতে পারেন। বিকেলে বা সন্ধ্যাবেলা পানি সেচ দিলে বাষ্পীভবন কম হয়। সারিবদ্ধ ফসলের ক্ষেতে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থানে পানি সেচ দেওয়া এবং মাটির বুনট বিবেচনা করে সেচ প্রদান করাও জরুরি। এছাড়াও, সেচ নালা ফসলের দিকে ঢালু করে তৈরি করা এবং মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা সেচের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 2: কৃষি প্রযুক্তি › Topic: পানি সেচের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি
Aligned to the NCTB national curriculum.