সেচের পানির অপচয়ের তিনটি কারণ হলো বাষ্পীভবন, পানির অনুস্রবণ এবং পানি চুয়ানো।
পানির চুয়ানো ও অনুস্রবণ উভয়ই পানির অপচয়ের কারণ। পার্থক্য হলো অনুস্রবণের মাধ্যমে পানি মাটির স্তর ভেদ করে সোজাসুজি নিচের দিকে চলে যায়, আর চুয়ানোর মাধ্যমে পানি অন্য ক্ষেতে চলে যায়, যেমন ইঁদুরের গর্তের মাধ্যমে।
আলী সাহেব তার জমির বাষ্পীভবন জনিত পানির অপচয় কমাতে সময়মতো এবং পরিমাণমতো পানি সেচ দিতে পারেন যাতে ফসল নিজ প্রয়োজনে পানি গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও, বিকেলে বা সন্ধ্যাবেলা পানি সেচ দিলে সূর্যের তাপের কারণে বাষ্পীভবন কম হবে, ফলে পানির অপচয় কমবে।
আলী সাহেব তার জমিতে সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি পাকা সেচ নালা তৈরি করতে পারেন যাতে নালা দিয়ে পানি চুয়ানো বা অনুস্রবণ না হয়। এছাড়াও, মাটির বুনট বিবেচনা করে সেচ প্রদান করা, জমিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা (যা মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে) এবং ইঁদুরের উৎপাত বন্ধ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন। উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া এবং সেচ নালা ফসলের দিকে ঢালু করে তৈরি করাও দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 2: কৃষি প্রযুক্তি › Topic: পানি সেচের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি
Aligned to the NCTB national curriculum.