নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার হলো তার নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চলাচল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
গোটা নারীসমাজকে যদি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চলাফেরা, মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তবে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন হবে এবং নারীরা মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মিসেস রোকসানা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা বাংলাদেশের সমাজে নারীর 'জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকার' এবং 'নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার'-এর লঙ্ঘনকে নির্দেশ করে। পরিবারে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা না থাকা নারীর অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের এই মনোভাব নারীর প্রতি প্রচলিত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা নারীকে কেবল গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অস্বীকার করে।
মিসেস রোকসানার মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা পালন করা উচিত। পরিবারের উচিত রোকসানার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সম্মান জানানো। পরিবারে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজের পক্ষ থেকে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, প্রচলিত কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর করতে হবে। গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নারীর অবদানকে তুলে ধরে এবং তাদের সমানাধিকারের গুরুত্ব প্রচার করে এই পরিবর্তন আনতে পারে। রাষ্ট্রের উচিত নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং নারীদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধি করা। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির মতো পদক্ষেপগুলো আরও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টাগুলো রোকসানার মতো নারীদের সমাজে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে এবং তাদের অধিকারগুলো পরিপূর্ণরূপে ভোগ করতে সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.