বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।
বেগম রোকেয়া সমাজের নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দুটি চাকা সমানতালে না চললে গাড়ি যেমন থেমে যাবে তেমনি সমাজের একটি অংশ (নারী) যদি পিছিয়ে থাকে তবে সমাজ উন্নয়নের চাকাও পিছিয়ে যাবে।
রিনা বেগম তার ছোট বোনকে উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহিত করার মাধ্যমে নারীর শিক্ষা অধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে সকলের সমান সুযোগ লাভের অধিকার রয়েছে। তার বাবা-মায়ের মনোভাব গ্রামীণ সমাজের প্রচলিত ধারণার প্রতিফলন, যেখানে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা নারীর শিক্ষা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী।
রিনা বেগমের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বৃহৎ অংশকে পিছনে ফেলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী শুধু গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনেই নয়, বরং উপার্জনক্ষম কাজ, সন্তান লালন-পালন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রেও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং রাষ্ট্রগঠনে কার্যকর অবদান রাখেন। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তি 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি সভ্য, শিক্ষিত জাতি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিব' - এটিও শিক্ষিত নারীর গুরুত্ব প্রমাণ করে। তাই নারী অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের অগ্রগামী হওয়ার সুযোগ দেওয়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.