অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী) একটি ঔষধি উদ্ভিদ।
বাংলাদেশের কৃষিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎপাদন বলতে বিভিন্ন ধরনের শস্য, ফুল, ফল, শাক, সবজি, নির্মাণ সামগ্রী, তন্তু, ঔষধিগাছ এবং রকমারি পশু-পাখি ও মৎস্য উৎপাদনকে বোঝায়। এটি উদ্ভিদ ও প্রাণিজ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্ত করে।
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের মাঠ ফসলের বৈচিত্র্য খুবই সমৃদ্ধ। খোলা মাঠে উৎপাদিত ফসল যেমন ধান, পাট, গম, আখ, বিভিন্ন রকম ডাল ইত্যাদি মাঠ ফসলের উদাহরণ। বাংলাদেশ একটি অন্যতম পাট উৎপাদনকারী দেশ, যা একসময় 'সোনালি আঁশ' নামে পরিচিত ছিল। পঞ্চাশ বছর আগেও প্রায় দুইশত জাতের ধান জন্মাতো। যদিও উচ্চফলনশীল জাতের চাষাবাদের কারণে কিছু জাত হারিয়ে গেছে, তবে বিভিন্ন প্রকার তুলা উৎপাদন আবার বেড়ে চলেছে। নতুন নতুন উদ্ভিদও দেশে আসছে, যা মাঠ ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে।
কৃষির আধুনিকায়নের ফলে ফসলবৈচিত্র্য কমার কারণ হলো উচ্চফলনশীল জাতের চাষাবাদ। কৃষকরা অধিক ফলন এবং বাণিজ্যিক লাভের জন্য সীমিত সংখ্যক উচ্চফলনশীল জাতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় বা ঐতিহ্যবাহী অনেক জাতের ধান, তুলা বা অন্যান্য ফসল হারিয়ে যায়। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ফসলবৈচিত্র্য কমে গেলে কোনো নির্দিষ্ট রোগ বা পোকার আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এছাড়াও, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও প্রথা বিলুপ্ত হতে পারে। তাই, আধুনিকায়নের পাশাপাশি ফসলবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: কৃষি পরিবেশ, বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও কৃষিজ উৎপাদন
Aligned to the NCTB national curriculum.