বাঙালির একটি পরিচিতি 'মাছে-ভাতে বাঙালি'।
মাছ পালন ও উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় চাষ করা মাছের সম্পূরক খাদ্য উৎপাদন হিসেবে 'ফিশ ফিড' নামক একটি সহায়ক কৃষিশিল্প গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবেই মিঠা পানির মাছের বৈচিত্র্যধন্য দেশ। প্রথম প্রথম রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয় মাছ চাষ হলেও বর্তমানে পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, কৈ, মাগুর, মলা ইত্যাদি সুস্বাদু মাছ জনপ্রিয়। উপকূলীয় অঞ্চলের লোনা পানিতে বাগদা ও মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ির চাষ করা হচ্ছে, যা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এই বৈচিত্র্য বাঙালির খাদ্য তালিকায় মাছকে প্রিয় বস্তু করে তুলেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে প্রাণিজ উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, চামড়া, পশম, শিং ও হাড় থেকে নানা শিল্প পণ্য উৎপাদিত হয়। মাছ চাষ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয় (যেমন চিংড়ি রপ্তানি)। মুরগি, হাঁস, ছাগল, ভেড়া, গরু ও মহিষ পালন করে প্রোটিনের চাহিদা মেটানো এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' ছাগলের উন্নত চামড়া রপ্তানি হয়। ভেড়ার লোম থেকে উল তৈরি হয়। দুগ্ধ শিল্পে মহিষের দুধের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এই সকল প্রাণিজ উৎপাদন দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়তা করে, যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: কৃষি পরিবেশ, বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও কৃষিজ উৎপাদন
Aligned to the NCTB national curriculum.