আধান বা চার্জ হলো বস্তুর একটি মৌলিক ধর্ম যার কারণে বস্তুটি তড়িৎ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল অনুভব করে।
একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন থাকে, তার বাইরে ঠিক সেই কয়টি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন বিচরণশীল থাকে। প্রোটন ও ইলেকট্রনের চার্জের মান সমান কিন্তু বিপরীত হওয়ায় পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য হয়, তাই পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা নিস্তড়িৎ।
শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় ঘর্ষণের ফলে চিরুনিতে ইলেকট্রন জমা হয়ে ঋণাত্মক চার্জে আহিত হয়। যখন এই ঋণাত্মক চার্জযুক্ত চিরুনি কাগজের টুকরোর কাছে আনা হয়, তখন কাগজের টুকরোর কাছাকাছি অংশে বৈদ্যুতিক আবেশ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধনাত্মক চার্জ এবং দূরের অংশে ঋণাত্মক চার্জ আবেশিত হয়। যেহেতু ধনাত্মক চার্জের অংশটুকু চিরুনির বেশি কাছে থাকে, তাই আকর্ষণ বল বিকর্ষণ বলের চেয়ে বেশি হয় এবং কাগজের টুকরো চিরুনির দিকে আকর্ষিত হয়।
বজ্রপাত এবং স্থির বৈদ্যুতিক রং স্প্রে উভয় ক্ষেত্রেই স্থির বিদ্যুতের নীতি কাজ করে, তবে তাদের কার্যপদ্ধতি ভিন্ন। বজ্রপাতের ক্ষেত্রে মেঘে ঘর্ষণের ফলে বিপুল পরিমাণ চার্জ জমা হয় এবং এই চার্জ বাতাসকে আয়নিত করে দ্রুতবেগে মাটিতে নেমে আসে, যা একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। অন্যদিকে, স্থির বৈদ্যুতিক রং স্প্রেতে রঙের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে কৃত্রিমভাবে চার্জিত করা হয় এবং এই চার্জিত কণাগুলো বিপরীত চার্জযুক্ত বা ভূ-সংযুক্ত বস্তুর দিকে আকর্ষিত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই চার্জের আবেশ, আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বলের নীতি কাজ করে, কিন্তু বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক চার্জ নিঃসরণ প্রক্রিয়া যা বিশাল শক্তি নির্গত করে, আর রং স্প্রে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া যা চার্জের আকর্ষণ ব্যবহার করে মসৃণভাবে রং প্রয়োগ করে। বজ্রপাতে চার্জের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ থেকে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু রং স্প্রেতে চার্জের সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয়।
SSC (Class 9-10) › Physics › Chapter 10: স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) › Topic: ঘর্ষণে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি (Static Electricity due to Friction)
Aligned to the NCTB national curriculum.