বজ্রপাত নিরোধক শলাকা হলো একটি ধাতব সুচালো মুখযুক্ত দণ্ড যা উঁচু বিল্ডিংয়ের উপর লাগানো হয় এবং মোটা বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তার দিয়ে মাটির গভীরে সংযুক্ত থাকে, যা বজ্রপাত থেকে ভবনকে রক্ষা করে।
বজ্রপাতের সময় মেঘ থেকে বিশাল পরিমাণ চার্জ পৃথিবীতে নেমে আসে। বাতাসের ভেতর দিয়ে এই বিশাল বিদ্যুৎপ্রবাহ যাওয়ার সময় বাতাসকে আয়নিত করে ফেলে এবং প্রচণ্ড রোধের কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎপ্রবাহের জন্য বাতাসের তাপমাত্রা 20 থেকে 30 হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে যায়, যা সূর্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকেও বেশি।
বজ্র নিরোধক শলাকাগুলো সুচালো হওয়ায় বজ্রপাতের উপক্রম হলে সেখানে তীব্র তড়িৎ ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই তড়িৎ ক্ষেত্রের কারণে আশপাশে থাকা বাতাস ও জলীয় বাষ্প আয়নিত হয়ে যায় এবং আকাশের দিকে উঠে মেঘের ঋণাত্মক চার্জকে চার্জহীন করে বজ্রপাতের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, যদি বজ্রপাত হয়, তাহলে বিশাল পরিমাণ চার্জকে এই দণ্ড নিরাপদে মাটির ভেতরে নিয়ে যায়, যা ভবনকে রক্ষা করে।
বজ্রপাতের সময় আলোর ঝলকানি এবং শব্দ একই সাথে তৈরি হয়। তবে আমরা আলোটিকে প্রথম দেখি এবং এর কিছু সময় পর শব্দ শুনতে পাই। এর কারণ হলো আলোর গতিবেগ শব্দের গতিবেগের চেয়ে অনেক বেশি। আলোর গতিবেগ এত বেশি যে এটি প্রায় সাথে সাথে আমাদের কাছে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, শব্দের গতি এর মতো, অর্থাৎ এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রায় সময় নেয়। যেহেতু আলো শব্দের চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে চলে, তাই আমরা প্রথমে আলোর ঝলকানি দেখি এবং আলোর গতিবেগ ও শব্দের গতিবেগের পার্থক্যের কারণে শব্দ শুনতে কিছুটা দেরি হয়। এই সময় পার্থক্য ব্যবহার করে বজ্রপাত কত দূরে হয়েছে তা অনুমান করা যায় (প্রতি তিন সেকেন্ডের জন্য এক কিলোমিটার)।
SSC (Class 9-10) › Physics › Chapter 10: স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) › Topic: ঘর্ষণে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি (Static Electricity due to Friction)
Aligned to the NCTB national curriculum.