২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রতি লক্ষে ১৫৬ জন মাতৃমৃত্যুর হার ছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভপাত মাতৃমৃত্যুর একটি কারণ, কারণ এটি অনিরাপদ পরিবেশে বা অদক্ষ ব্যক্তির দ্বারা করা হলে মায়ের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তপাত বা অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা মায়ের মৃত্যুর কারণ হয়।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রতি লক্ষে ৬৫০ জন মাতৃমৃত্যু ঘটলেও, ১৯৯০ সালে তা ৫৭৪ জন, ২০০১ সালে ৩২২ জন, ২০১০ সালে ১৯৪ জন, ২০১৬ সালে ১৭৬ জন এবং ২০২২ সালে ১৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিক হ্রাস উন্নত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, নারী শিক্ষার বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ রোধে গৃহীত পদক্ষেপের ফল।
মাতৃমৃত্যু পারিবারিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হতে পারে কারণ মা হলেন পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু এবং শিশুদের প্রধান পরিচর্যাকারী। মায়ের অনুপস্থিতি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক শূন্যতা ও গভীর শোক সৃষ্টি করে, যা পরিবারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। সদ্যোজাত শিশু মায়ের স্নেহ ও পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া, মায়ের মৃত্যুর ফলে পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে যদি মা পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হন। এটি শিশুদের দেখাশোনা এবং তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করে, যা পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, প্রভাব ও সমাধান পদক্ষেপ
Aligned to the NCTB national curriculum.