১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৪৮%।
জনসংখ্যার পরিবর্তনশীল অবস্থাকে জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা বলা হয়। এটি জনসংখ্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং প্রধানত জন্মহার, মৃত্যুহার, স্থানান্তর ও সামাজিক গতিশীলতার উপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে একটি ধারাবাহিক হ্রাস প্রবণতা দেখা যায়। ১৯৭৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ২.৪৮%, যা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২২ সালে ১.২২% এ দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা নির্দেশ করে যে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রসারের ফলে জন্মহার কমেছে এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী, এর অন্যতম কারণ হলো শিক্ষার হার বৃদ্ধি, বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার। শিক্ষিত নারীরা ছোটো পরিবার গঠনে আগ্রহী হয় এবং বাল্যবিবাহের হার কমে। উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার কারণে শিশু ও মাতৃমৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ আন্দোলন জোরদার করা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতাও জন্মহার কমাতে সাহায্য করেছে। এছাড়া, নারীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। দারিদ্র্য হ্রাসে গৃহীত কার্যক্রমও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 7: বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি › Topic: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, প্রভাব ও সমাধান পদক্ষেপ
Aligned to the NCTB national curriculum.