পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে।
পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন এবং চার্জবিহীন নিউট্রন, আর নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন। স্বাভাবিক অবস্থায় একটি পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, তাই পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ। যখন কোনো পরমাণু ইলেকট্রন হারায়, তখন সেটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় (কারণ প্রোটনের সংখ্যা বেড়ে যায়)। আর যখন কোনো পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তখন সেটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয় (কারণ ইলেকট্রনের সংখ্যা বেড়ে যায়)। ইলেকট্রনের এই আদান-প্রদানই আধান প্রাপ্তির মৌলিক কারণ।
চিরুনিটি আহিত হওয়ার কারণ হলো ঘর্ষণ। শীতকালে যখন চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো হয়, তখন চিরুনি এবং চুলের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। সাধারণত, প্লাস্টিকের চিরুনি ইলেকট্রনের জন্য চুলের চেয়ে বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। তাই চুল থেকে ইলেকট্রন চিরুনিতে স্থানান্তরিত হয়। ফলে চিরুনিতে অতিরিক্ত ইলেকট্রন জমা হয়ে ঋণাত্মক চার্জে আহিত হয় এবং চুল ধনাত্মক চার্জে আহিত হয়।
চিরুনিটির আধানের প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য প্রথমে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রকে একটি পরিচিত চার্জে (যেমন, কাচকে সিল্ক দিয়ে ঘষে ধনাত্মক চার্জ) আহিত করতে হবে। এতে যন্ত্রের সোনার পাত দুটি ফাঁক হয়ে যাবে। এরপর আহিত চিরুনিটিকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের ধাতব চাকতির কাছে আনা হবে (স্পর্শ না করে)। ১. যদি সোনার পাত দুটির ফাঁক আরও বেড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে চিরুনিটির চার্জের প্রকৃতি তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রে থাকা চার্জের (ধনাত্মক) মতোই, অর্থাৎ চিরুনিটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত। ২. যদি সোনার পাত দুটির ফাঁক কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে চিরুনিটির চার্জের প্রকৃতি তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রে থাকা চার্জের (ধনাত্মক) বিপরীত, অর্থাৎ চিরুনিটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত। এভাবে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে চিরুনিটির আধানের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায়।
SSC (Class 9-10) › Physics › Chapter 10: স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) › Topic: আধান বা চার্জ (Charge)
Aligned to the NCTB national curriculum.