মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে, যার মধ্যে নারী-পুরুষের সমান অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে কারণ সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নারীর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সার্বজনীন কল্যাণের জন্য এটি অপরিহার্য।
রীনার পরিবারে যে বৈষম্য দেখা যায়, তার কারণ হলো সমাজে এখনও প্রচলিত সেই পুরনো মনোভাব যে কন্যাসন্তানকে বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়। পিতামাতা মনে করে পুত্র বড় হয়ে তাদের উপার্জন করে খাওয়াবে, আর কন্যা বিয়ের পর অন্যের বাড়িতে চলে যাবে এবং তাকে বিয়ে দিতে খরচ করতে হবে। এই মনোভাব থেকেই তারা পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয় এবং মেয়ের লেখাপড়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না, ফলে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
রীনার মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিম্নলিখিত সুপারিশ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে: প্রথমত, সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য যাতে মানুষ নারী অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করার মনোভাব পরিবর্তন হয়। দ্বিতীয়ত, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। তৃতীয়ত, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। চতুর্থত, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করা। এই পদক্ষেপগুলো নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.