জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে।
জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকার বলতে বোঝায় যে, নারীরা শুধু পারিবারিক বা গৃহস্থালি কাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অংশ নিতে পারবে।
রিমা যে অধিকার সম্পর্কে সচেতন, তা বাংলাদেশের নারী অধিকারের 'আইনের চোখে নারী-পুরুষ সমান এবং সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' এই দিকটি।
নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত হবে—এই উক্তিটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক হলো নারী। সমাজের এই বৃহৎ অংশকে পিছনে ফেলে বা অধিকার বঞ্চিত করে কোনো অবস্থাতেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।' বেগম রোকেয়া নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন, যা সমানতালে না চললে গাড়ি যেমন থেমে যাবে তেমনি সমাজ উন্নয়নের চাকাও পিছিয়ে যাবে। নারীরা শুধু গৃহস্থালি কাজ নয়, বরং বিভিন্ন শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা সর্বত্রই দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছে। গোটা নারীসমাজকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চলাফেরা, মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, যা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখবে এবং রাষ্ট্রগঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.