কলের কোকিলের গান শুনে প্রজারা ছত্রিশবার খুশি হয়েছিল, যেন ছত্রিশ পেয়ালা চা খেয়েছে।
সংগীতবিশারদ জেলের কথায় অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কারণ জেলে বলেছিল যে কলের কোকিলের গান যতবার গাইল এক রকমই লাগল এবং 'কী-যেন একটা নেই' মনে হলো। সংগীতবিশারদ মনে করতেন যে কলের কোকিলের গান তালে, লয়ে, সুরে ও মানে একেবারে নিখুঁত, তাই জেলের মন্তব্য তার কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল।
জেলে বনের মধ্যে আসল কোকিলের স্বতঃস্ফূর্ত ও হৃদয়গ্রাহী গান শুনেছিল। তাই কলের কোকিলের বাঁধা গৎ এবং যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি তার কাছে প্রাণহীন মনে হয়েছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে কলের কোকিলের গানে সুর, তাল ও লয় নিখুঁত হলেও তাতে এক ধরনের 'প্রাণ' বা 'অনুভূতি' অনুপস্থিত, যা আসল কোকিলের গানে থাকত।
কলের কোকিলের প্রতি সভাসদ ও প্রজাদের উচ্ছ্বাস এবং জেলের ভিন্ন মতামতের মাধ্যমে লেখক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কৃত্রিম চাকচিক্যের মধ্যে পার্থক্য এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মূল্যবোধের ভিন্নতা তুলে ধরেছেন। সভাসদ ও প্রজারা বাহ্যিক চাকচিক্য, নিখুঁত যান্ত্রিকতা এবং রাজার হুকুমের কারণে কলের কোকিলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। কিন্তু জেলে, যে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকে, সে বুঝতে পেরেছিল যে যান্ত্রিক নিখুঁততার চেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ও প্রাণময়তা অনেক বেশি মূল্যবান। লেখক এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, সত্যিকারের সৌন্দর্য ও গুণ উপলব্ধি করতে হলে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়, কেবল চোখ বা কান দিয়ে নয়। এটি আরও দেখায় যে, সমাজের উচ্চবর্গ অনেক সময় কৃত্রিমতার মোহে আসল সৌন্দর্যকে অবহেলা করে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সত্যের কাছাকাছি থাকে।
Class 7 › আনন্দপাঠ › Chapter 6: কোকিল › Topic: কলের কোকিলের আগমন ও আসল কোকিলের নির্বাসন
Aligned to the NCTB national curriculum.