কোকিলের শেষ মিনতি ছিল যে, ছোটো একটা পাখি এসে রাজাকে সব কথা বলে যায় এ-কথা যেন রাজা কাউকে না বলেন।
ভৃত্য ও অমাত্যরা যখন রাজার কাছে এল, তখন তারা মৃত সম্রাটকে দেখতে এসেছিল। কিন্তু তারা দেখল যে রাজা দাঁড়িয়ে আছেন, এতে তারা বিস্মিত ও হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল 'এ কী! ওই তো তিনি দাঁড়িয়ে!'।
রাজার 'এসো' বলার মধ্যে তার মানসিকতার একটি গভীর পরিবর্তন নির্দেশ করে। পূর্বে তিনি অহংকারী ও বিচ্ছিন্ন ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি জীবন ফিরে পেয়ে এবং সত্য উপলব্ধি করে আরও সংযত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। এই 'এসো' শব্দটি তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একই সাথে তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে তিনি হয়তো তাদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অবগত হয়েও তাদের প্রতি একটি নতুন বিচারবোধ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
কোকিলের শর্ত এবং রাজার তা মেনে নেওয়ার মাধ্যমে গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো দৈনন্দিন জীবনে এভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে: প্রথমত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বতঃস্ফূর্ততার মূল্য যন্ত্রের চাকচিক্যের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের চারপাশে থাকা প্রকৃত সৌন্দর্যকে আমরা যেন অবহেলা না করি। দ্বিতীয়ত, নিঃস্বার্থ পরোপকারের গুরুত্ব অপরিসীম; কোনো প্রতিদানের আশা না করে অন্যের উপকার করলে তা সত্যিকারের শান্তি ও আনন্দ এনে দেয়। তৃতীয়ত, ক্ষমতা ও পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করা এবং তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করা উচিত। চতুর্থত, সত্যকে সবসময় প্রকাশ্যে এনে নয়, বরং বিচক্ষণতার সাথে প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেন বস্তুগত জিনিসের চেয়ে মানবিক সম্পর্ক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হই এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও উদারতা বজায় রাখি।
Class 7 › আনন্দপাঠ › Chapter 6: কোকিল › Topic: কলের কোকিলের আগমন ও আসল কোকিলের নির্বাসন
Aligned to the NCTB national curriculum.