CQকলের কোকিলের আগমন ও আসল কোকিলের নির্বাসন
একদিন রাজার নামে 'কোকিল' লেখা একটি পার্সেল এল। এর ভেতর ছিল একটি চমৎকার কাজ করা কলের কোকিল, যা মণি মুক্তো হীরে জহরতে ঝলমল করছিল এবং সত্যিকারের পাখির মতো গান গাইত। কলের পাখিটি দম দিলে অবিকল কোকিলের মতো গাইত এবং তার সোনা-রুপোর কাজ-করা লেজ দুলত। এর গলায় একটি ফিতে বাঁধা ছিল, যেখানে লেখা ছিল যে জাপানের সম্রাটের কোকিলের তুলনায় চীন সম্রাটের কোকিল কিছুই নয়। রাজা দুজনকেই একসঙ্গে গান গাইতে বললেন, কিন্তু বেশি জমল না, কারণ কলের কোকিল গাইত বাঁধা গৎ, আর সত্যিকারের কোকিল গাইত নিজের খেয়ালে।
CQকলের কোকিলের আগমন ও আসল কোকিলের নির্বাসন
আসল কোকিল খোলা জানালা দিয়ে উড়ে বনের সবুজ বুকে ফিরে যাওয়ার পর কলের কোকিলকে আবার গাইতে হলো। পরের পূর্ণিমায় রাজ্যের সব প্রজাকে নিমন্ত্রণ করা হলো এই পাখি দেখতে এবং তার গান শুনতে। গান তারা শুনল ছত্রিশবার, এতে তারা খুব খুশি হলো। কিন্তু সেই জেলে, যে বনের মধ্যে আসল কোকিলের গান শুনেছিল, সে বলল, 'মন্দ নয়, কিন্তু যতবার গাইল এক রকমই লাগল যেন। আর কী-যেন একটা নেই মনে হলো।' সংগীতবিশারদ তার কথা শুনে ভুরু কুঁচকে বললেন, 'কী নেই বলো তো বাপু? তালে লয়ে সুরে মানে একেবারে নিখুঁত!' জেলে চুপ করে গেল। আসল কোকিল নির্বাসিত হলো দেশ থেকে। নকল পাখিটা রইল রাজার হালে।
CQকলের কোকিলের আগমন ও আসল কোকিলের নির্বাসন
রাজা কোকিলের সব শর্ত মেনে নিলেন এবং বললেন, 'যা চাও! যা কিছু চাও তুমি!' সম্রাট নিজের হাতেই তার রাজবেশ পরে উঠে দাঁড়ালেন, তার সোনার তরোয়াল চেপে ধরলেন বুকের ওপর। কোকিল বলল, 'এই মিনতি আমার, ছোটো একটা পাখি এসে আপনাকে সব কথা বলে যায় এ-কথা কাউকে বলবেন না। তাহলেই সব ভালো রকম চলবে।' এল ভৃত্য, এল অমাত্য মৃত সম্রাটকে দেখতে। এ কী! ওই তো তিনি দাঁড়িয়ে! সম্রাট তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এসো'।