আনন্দপাঠ · Class 7
কোকিল সম্রাটকে রাজপ্রাসাদে বাসা বেঁধে থাকতে রাজি হলো না। সে অনুমতি চাইল যখন ইচ্ছে করবে তখন এসে সন্ধ্যেবেলায় জানালার ধারে ডালে বসে গান শোনাবে। সে গান শুনে রাজার অনেক কথা মনে পড়বে। কোকিল সুখী ও দুঃখী মানুষের গান গাইবে, চারদিকে লুকোনো ভালো-মন্দের গান গাইবে। সে বলল যে তার এই ছোটো পাখিটি অনেক দূরে-দূরে ঘুরে বেড়ায়, গরিব জেলের ঘরে, চাষিদের খেতে যায় এবং তাদের কথা জানে। কোকিল রাজাকে বলল যে সে তাকে গান শোনাবে, কিন্তু একটি কথা তাকে দিতে হবে।
রাজা বললেন, 'আজ সন্ধ্যায় সে আমার সভায় এসে গান করবে, এই আমার আদেশ। যদি সে না-আসে তাহলে আজ সান্ধ্যভোজের পর আমার সমস্ত সভাসদ হাতির নিচে পড়ে মরবে।' 'চুং-পি!' প্রধান অমাত্য বলে উঠলেন। তারপর আবার তিনি ওঠানামা করলেন দু-শো সিঁড়ি দিয়ে, খুঁজলেন সব ঘর, সব বারান্দা, আর সভাসদরা ছুটল তাঁর সঙ্গে-সঙ্গে। হাতির নিচে পড়ে মরতে কারুরই পছন্দ নয়।
রাজা তাঁর প্রধান অমাত্যকে ডেকে পাঠালেন। তিনি এতই প্রধান যে তাঁর নিম্নস্থ কেউ যদি কখনো সাহস করে তাঁর সঙ্গে কথা বলত তিনি শুধু জবাব দিতেন: 'পিঁ!' আর তার অবশ্য কোনো মানে হয় না। 'কোকিল বলে এক আশ্চর্য পাখি নাকি এখানে আছে', রাজা বললেন। 'এঁরা বলছেন আমার এত বড়ো রাজত্বে সেটাই শ্রেষ্ঠ জিনিস। কই, আমি তো তার কথা কখনো শুনিনি!' প্রধান অমাত্য একটু ভেবে বললেন, 'রাজসভায় সে তো কখনো উপস্থিত হয়নি, তার তো নামই শুনিনি, মহারাজ।'
রাজা তাঁর সোনার সিংহাসনে বসে-বসে পুথিগুলো পড়লেন, আরও পড়লেন, পড়তে পড়তে কেবলি খুশি হয়ে মাথা নাড়তে লাগলেন- কেবল তাঁর রাজধানীর, তাঁর প্রাসাদের, তাঁর বাগানের এতসব উচ্ছ্বসিত বর্ণনা পড়ে বড়ো ভালো লাগল তাঁর। 'কিন্তু সবচেয়ে ভালো হচ্ছে কোকিল পাখি', সেখানে স্পষ্ট করে লেখা। রাজা চমকে উঠলেন। কোকিল! সে কী জিনিস? ও-রকম কোনো পাখি আছে নাকি আমার রাজত্বে? আমার বাগানেও নাকি আছে! আমি তো কখনো শুনিনি! কী কাণ্ড, তার কথা আমি প্রথম জানলাম এসব বই পড়ে।
নানা দেশ থেকে নানা লোক আসে সেই রাজধানীতে, দেখে বাহবা দেয়। রাজার প্রাসাদ আর বাগান দেখে তাদের চোখের পলক আর পড়ে না; কিন্তু কোকিলের গান যেই তারা শোনে, অমনি বলে ওঠে, 'আহা, এমন আর হয় না!' দেশে ফিরে এসে তারা কোকিলের গল্প করে; পণ্ডিতেরা বড়ো-বড়ো পুথি লেখেন চীন রাজার প্রাসাদ নিয়ে, বাগান নিয়ে; কিন্তু কোকিলকে কি তাঁরা ভুলতে পারেন? সেই পাখির প্রশংসা হাজার পাতা জুড়ে, আর কবিরা হ্রদে-ঘেরা বনের বুকের সেই আশ্চর্য পাখিকে নিয়ে আশ্চর্য সব কবিতা লেখেন।
রাজার বাগানে ফোটে কত আশ্চর্য ফুল; সবচেয়ে যেগুলো দামি তাদের গলায় রুপোর ঘণ্টা বাঁধা, কাছ দিয়ে যদি হেঁটে যাও, ঘণ্টার শব্দে ফিরে তাকাতেই হবে। এত বড়ো বাগান, মালি নিজেই জানে না তার শেষ কোথায়। যদি কেবলই হেঁটে চলো, আসবে এক বনের ধারে। কী সুন্দর বন, তাতে মস্ত উঁচু গাছ আর গভীর হ্রদ। বন সোজা সমুদ্রে চলে গেছে, নীল জলের অতল সমুদ্র আর ঝুঁকে-পড়া ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক কোকিল।
'কোকিল' একটি রূপকথাধর্মী গল্প। চীনদেশে ছিল এক ছোট্ট ও সুকণ্ঠী কোকিল। রাজা তার গানে মুগ্ধ হয়ে তাকে রাজসভাতে সোনার খাঁচায় রেখে দিলেন। কিন্তু এক কলের কোকিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল, যার ছিল গৎবাঁধা কণ্ঠ ও সুর। সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ায় আসল কোকিল অবহেলিত হয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করল। কলের কোকিলের তার ছিঁড়ে গেলে রাজা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং মৃত্যুভীতি তাকে আচ্ছন্ন করল। এই দুর্দিনে আসল কোকিল ফিরে এসে রাজার প্রাণ রক্ষা করল। বিনিময়ে সে কিছুই নিল না, শুধু স্বাধীনভাবে সবার জন্য দুঃখ-সুখের গান গাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করল।
বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক ও সম্পাদক ছিলেন। 'প্রগতি' ও 'কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- 'বন্দীর বন্দনা', 'কঙ্কাবতী'। উপন্যাসগুলোর মধ্যে আছে- 'তিথিডোর', 'নির্জন স্বাক্ষর', 'রাত ভ'রে বৃষ্টি'। মহাকবি কালিদাসের 'মেঘদূত' তার অনুবাদ-গ্রন্থ। বুদ্ধদেব বসু ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দেরসেন ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের আদেনস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জুতার কারিগর ও গরিব বাবার সন্তান ছিলেন। নানা বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি নাটক, ভ্রমণকাহিনি ও উপন্যাস লিখলেও সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন গল্প লিখে। আন্দেরসেনকে 'গল্পের জাদুকর' বলা হয়। কল্পনা ও বাস্তবের মিশেলে রচিত তার গল্পকথাগুলোতে মানবিক অনুভূতি গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। তার রূপকথাগুলো ১২৫টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 'মৎস্যকন্যা', 'কুচ্ছিত প্যাঁকারু', 'বুনো হাঁসদের কথা', 'নাইটিঙ্গেল', 'রাজার নতুন পোশাক' প্রভৃতি গল্প তার পরিচিত ও জনপ্রিয় রচনা।
রাজা কোকিলের সব শর্ত মেনে নিলেন এবং বললেন, 'যা চাও! যা কিছু চাও তুমি!' সম্রাট নিজের হাতেই তার রাজবেশ পরে উঠে দাঁড়ালেন, তার সোনার তরোয়াল চেপে ধরলেন বুকের ওপর। কোকিল বলল, 'এই মিনতি আমার, ছোটো একটা পাখি এসে আপনাকে সব কথা বলে যায় এ-কথা কাউকে বলবেন না। তাহলেই সব ভালো রকম চলবে।' এল ভৃত্য, এল অমাত্য মৃত সম্রাটকে দেখতে। এ কী! ওই তো তিনি দাঁড়িয়ে! সম্রাট তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এসো'।
চীনদেশের রাজা একজন চীনেম্যান, যার প্রাসাদ ও বাগান ছিল অত্যন্ত চমৎকার। বাগানে রুপোর ঘণ্টা বাঁধা দামি ফুল ফুটত এবং এর শেষ কোথায় মালি নিজেও জানত না। এই বিশাল বাগানের শেষে ছিল এক বন, যেখানে একটি কোকিল লুকিয়ে থাকত এবং তার গান ছিল অত্যন্ত মধুর। দেশ-বিদেশ থেকে লোকেরা রাজার প্রাসাদ ও বাগান দেখে মুগ্ধ হলেও, কোকিলের গান শুনে তারা সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করত। পণ্ডিতেরা কোকিলকে নিয়ে পুথি লিখতেন এবং কবিরা কবিতা রচনা করতেন। রাজা এই পুথি পড়ে জানতে পারলেন যে তার রাজত্বের শ্রেষ্ঠ জিনিস হলো কোকিল, যা তিনি আগে কখনো শোনেননি।
সকালে সম্রাট জেগে উঠলেন নতুন স্বাস্থ্য, নতুন উৎসাহ নিয়ে। অমাত্য কি ভৃত্য কেউ তখনও আসেনি, সবাই জানত তিনি আর বেঁচে নেই। কেবল কোকিল তখনও গান করছে তার পাশে বসে। সম্রাট কোকিলকে সবসময় তার সঙ্গে থাকার অনুরোধ করলেন এবং বললেন তার যেমন খুশি গান করবে। তিনি কলের পুতুলটাকে হাজার টুকরো করে ভেঙে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু কোকিল বলল, 'মহারাজ, মিছিমিছি ওর ওপর রাগ করছেন। যতখানি ওর সাধ্য ও করেছে; এতদিন ওকে রেখেছেন, এখনও রাখুন।'
মৃত্যু একে-একে সব ঐশ্বর্যই দিয়ে দিল, গান শুনবে বলে। রাজা কোকিলকে ধন্য বলে সম্বোধন করলেন এবং তাকে দেবতার দূত ও স্বর্গের পাখি বললেন। তিনি স্বীকার করলেন যে তিনি কোকিলকে রাজত্ব থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবু কোকিলই মৃত্যুকে তার হৃদয় থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। রাজা কোকিলের কাছে পুরস্কার চাইলেন। কোকিল বলল যে সে তার পুরস্কার আগেই পেয়ে গেছে, যখন রাজা প্রথমবার তার গান শুনে কেঁদেছিলেন। কোকিল রাজাকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ঘুমোতে বলল এবং গান শোনাতে লাগল। কোকিলের গান শুনতে শুনতে সম্রাট ঘুমিয়ে পড়লেন, সে-ঘুম তার সকল রোগ ও ক্লান্তি মুছে দিল। সকালে তিনি নতুন স্বাস্থ্য ও উৎসাহ নিয়ে জেগে উঠলেন।
অতি কষ্টে সম্রাটের নিশ্বাস পড়ছিল। তিনি চোখ মেলে দেখলেন তার বুকের ওপর মৃত্যু বসে আছে, তার মাথায় সম্রাটেরই সোনার মুকুট, এক হাতে তার তরোয়াল, অন্য হাতে তার ঝকঝকে নিশান। সম্রাট 'গান! গান!' বলে উঠলেন। কিন্তু কলের পাখিটা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, কারণ তাকে দম দেওয়ার কেউ ছিল না। হঠাৎ জানালার দিক থেকে বেজে উঠল আশ্চর্য মধুর গান। এ সেই আসল কোকিল, জানালার বাইরে গাছের ডালে বসে সে গাইছে। সে শুনেছিল সম্রাট ভালো নেই, তাই সে এসেছে তাকে শান্তি দিতে, আশা দিতে।
পাঁচ বছর কেটে গেল। রাজ্যে সত্যিকারের হাহাকার পড়ে গেল, কারণ শোনা যাচ্ছিল সম্রাটের অসুখ, আর বেশি দিন তিনি বাঁচবেন না। এরই মধ্যে নতুন একজন সম্রাট ঠিক করা হয়ে গেছে। প্রজারা রাজপ্রাসাদের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রধান অমাত্যের কাছে রাজার খোঁজ নিচ্ছিল, আর প্রধান অমাত্য শুধু 'পিঁ!' বলে মাথা নাড়ছিলেন। সম্রাট মস্ত জমকালো বিছানায় শুয়ে ছিলেন, শরীর ঠান্ডা, মুখ ম্লান। সভাসদদের ধারণা হয়েছিল তিনি মরে গেছেন এবং তারা নতুন সম্রাটকে অভিনন্দন জানাতে ছুটেছিল। কিন্তু সম্রাট মরেননি, শক্ত, নিঃসাড় হয়ে শুয়ে ছিলেন। ঘরের জানালা খোলা ছিল, আকাশ থেকে চাঁদের আলো এসে পড়েছিল সম্রাটের ওপর এবং তার কলের পাখির ওপর।
এক বছর কেটে গেল। কলের পাখির গানের প্রতিটি টান সম্রাট, তার পারিষদ ও প্রত্যেক চীনের মুখস্থ হয়ে গেল। একদিন কলের পাখি গেয়ে চলছিল, হঠাৎ তার ভেতরে 'গর্র্, কী যে একটা ছিঁড়ে গেল-' 'গঁ-গ- গর্' শব্দ হলো, সবগুলো চাকা একবার ঘুরে এল, তারপর গান থেমে গেল। সম্রাট লাফিয়ে উঠলেন এবং দেহ-পুরোহিতকে ডাকলেন। পরে ঘড়িওয়ালাকে ডাকা হলো। অনেক চেষ্টার পর পাখিটাকে মেরামত করা গেল বটে, কিন্তু ঘড়িওয়ালা বলে গেল একে যেন খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করা হয়, কলকব্জা খারাপ হয়ে গেছে এবং নতুন বসানো যাবে না। এরপর থেকে বছরে একবারের বেশি একে গাওয়ানো যাবে না, আর তাও না-গাওয়ালেই ভালো।
আসল কোকিল খোলা জানালা দিয়ে উড়ে বনের সবুজ বুকে ফিরে যাওয়ার পর কলের কোকিলকে আবার গাইতে হলো। পরের পূর্ণিমায় রাজ্যের সব প্রজাকে নিমন্ত্রণ করা হলো এই পাখি দেখতে এবং তার গান শুনতে। গান তারা শুনল ছত্রিশবার, এতে তারা খুব খুশি হলো। কিন্তু সেই জেলে, যে বনের মধ্যে আসল কোকিলের গান শুনেছিল, সে বলল, 'মন্দ নয়, কিন্তু যতবার গাইল এক রকমই লাগল যেন। আর কী-যেন একটা নেই মনে হলো।' সংগীতবিশারদ তার কথা শুনে ভুরু কুঁচকে বললেন, 'কী নেই বলো তো বাপু? তালে লয়ে সুরে মানে একেবারে নিখুঁত!' জেলে চুপ করে গেল। আসল কোকিল নির্বাসিত হলো দেশ থেকে। নকল পাখিটা রইল রাজার হালে।
একদিন রাজার নামে 'কোকিল' লেখা একটি পার্সেল এল। এর ভেতর ছিল একটি চমৎকার কাজ করা কলের কোকিল, যা মণি মুক্তো হীরে জহরতে ঝলমল করছিল এবং সত্যিকারের পাখির মতো গান গাইত। কলের পাখিটি দম দিলে অবিকল কোকিলের মতো গাইত এবং তার সোনা-রুপোর কাজ-করা লেজ দুলত। এর গলায় একটি ফিতে বাঁধা ছিল, যেখানে লেখা ছিল যে জাপানের সম্রাটের কোকিলের তুলনায় চীন সম্রাটের কোকিল কিছুই নয়। রাজা দুজনকেই একসঙ্গে গান গাইতে বললেন, কিন্তু বেশি জমল না, কারণ কলের কোকিল গাইত বাঁধা গৎ, আর সত্যিকারের কোকিল গাইত নিজের খেয়ালে।
রাজসভায় উৎসবের আয়োজন করা হলো এবং কোকিলের জন্য সোনার ডালে হীরের পাতা বসানো হলো। কোকিল এমন আশ্চর্য গান করল যে সম্রাটের দুই চোখ জলে ভরে উঠল। সম্রাট খুশি হয়ে তাকে তার একপাটি সোনার চটি গলায় পরবার জন্য দিতে চাইলেন। কিন্তু কোকিল বলল যে সে আর কিছু নিতে পারবে না, কারণ সম্রাটের চোখে অশ্রু দেখাই তার পরম ঐশ্বর্য। এরপর থেকে কোকিল রাজসভাতেই সোনার খাঁচায় থাকত। দিনের মধ্যে দু-বার এবং রাত্রে একবার সে বেরোতে পারত, কিন্তু তার সঙ্গে থাকত বারোজন চাকর, যারা পাখির পায়ের সঙ্গে বাঁধা রেশমি সুতো শক্ত করে ধরে রাখত।
রাজা তার প্রধান অমাত্যকে ডেকে কোকিলকে সান্ধ্যভোজে গান গাওয়ার আদেশ দিলেন। যদি কোকিল না আসে, তবে সব সভাসদকে হাতির নিচে ফেলে মেরে ফেলার হুমকি দিলেন। প্রধান অমাত্য ভীত হয়ে কোকিলকে খুঁজতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত রান্নাঘরের এক ছোটো মেয়ের কাছে কোকিলের সন্ধান পেলেন। মেয়েটি বলল যে সে রোজ কোকিলের গান শোনে এবং তা খুব ভালো গায়। মেয়েটির সাহায্যে মন্ত্রী, সেনাপতি, উজির, নাজির, হাকিম, পেশকার সবাই মিলে বনে গেল। তারা অনেক কষ্টে ঘন ডালের আড়ালে কালো কোকিলকে দেখতে পেল।