বাংলাদেশ পৃথিবীর উপক্রান্তীয় (Sub-tropical) অঞ্চলে অবস্থিত।
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে জলজ মেঘমালা উৎপন্ন হয় এবং মৌসুমি বায়ুবাহিত হয়ে উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। আবার এই পর্বতমালা দেয়ালের মতো শীতকালে সাইবেরিয়ার হিমশীতল বায়ু প্রবাহ আটকে দেয়, ফলে শীতও কম হয়। এ কারণেই আমাদের দেশ জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে উদ্ভিদবৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'মধু মাস' বলতে জৈষ্ঠ্য মাসকে বোঝানো হয়েছে। এই মাসে দেশীয় নানা সুমিষ্ট ফলমূলের সমাহার বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালে ফলমূলের উৎপাদন বেশি হয় এবং জৈষ্ঠ্য মাস গ্রীষ্মকালের অন্তর্ভুক্ত। তাই এই মাসকে মধু মাস বলা হয়, যা ফলমূলের প্রাচুর্য ও মিষ্টি রসের সাথে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশের মাটি ও ঋতুচক্র কৃষিজ উৎপাদনকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। বাংলাদেশের নদী অববাহিকাগুলোতে বেলে-দোআঁশ মাটির প্রাধান্য থাকলেও উঁচু অঞ্চলে লালচে ও এঁটেল মাটি এবং হাওর অঞ্চলে কালো, জৈব পদার্থযুক্ত মাটির প্রাধান্য দেখা যায়। মাটির পার্থক্যের প্রভাবে কৃষিও বৈচিত্র্যময় হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও কৃষি ঋতু তিনটি (রবি, খরিপ-১, খরিপ-২)। ঋতু ভেদে ফসল উৎপাদনে ভিন্নতা দেখা যায়, যেমন শীতকালে শাকসবজি ও গ্রীষ্মকালে ফলমূল বেশি উৎপাদিত হয়। এই ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের কৃষিজ উৎপাদনকে বহুমাত্রিক করে তোলে।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: কৃষি পরিবেশ, বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও কৃষিজ উৎপাদন
Aligned to the NCTB national curriculum.