নৃবিজ্ঞানীগণ সেই ধরনের সমাজকে আদি কৃষি সমাজ বলেছেন যেখানে সবাই যার যার সাধ্যমতো উৎপাদনে অংশগ্রহণ করতেন এবং চাহিদামতো ভোগ করতেন, উৎপাদন ক্ষেত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সবার সমান অধিকার ছিল।
আদিযুগে পরিবারের সদস্যরা সক্ষমতা ও সুবিধা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নিতেন। কৃষিকাজ এবং পরিবারের নানা আনুষঙ্গিক জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করে তা উৎপাদনে কিছু লোক অন্যদের চাইতে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় শ্রম বিভাজন হলো। কুমার মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কামার ধাতবযন্ত্র তৈরি করতে লাগল। এভাবেই সবাইকে নিয়ে সমাজ গঠিত হলো, যা সমাজ গঠনে ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি বিষয়ক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে মানুষ তাদের বসবাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল। মানুষ আর গুহায় না থেকে পরিবেশ থেকে মাটি, বাঁশ, কাঠ, পাতা ব্যবহার করে ঘর-বাড়ি তৈরি করতে শুরু করল। এভাবে বেশকিছু পরিবারের বসতবাড়ি মিলে গ্রামের সূচনা হয়। এই পরিবর্তনগুলো কৃষির পরিধি ও পরিসর বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মানুষ তার বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে কৃষিকে প্রধান উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলেছে। কৃষির অগ্রগতির ফলে উৎপাদন যখন সামাজিক চাহিদা ছাড়িয়ে গেল, তখন এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন কেউ কেউ নিজ দখলে নেওয়ার প্রবণতা দেখাতে লাগলেন। এর ফলে সমাজের মধ্যে 'আমার চেয়ে আমার পরিবার বড়, পরিবারের চেয়ে সমাজ বড়' এ মূল্যবোধের জন্ম হয়, যা আদি সমাজের নিকট থেকে এসেছে। এই মূল্যবোধ না থাকলে কৃষি সমাজ অগ্রসর হতে পারত না, কারণ এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সংহতিকে উৎসাহিত করে।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: কৃষি ও কৃষকের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা
Aligned to the NCTB national curriculum.