যৌথ পরিবারে শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, নিরাপওাবোধ, সমানভাগের অংশীদার প্রবণতাসহ বিভিন্ন গুণ অর্জন করে।
যৌথ পরিবার কমে যাওয়ায় শিশুরা সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, নিরাপওাবোধ, সমানভাগের অংশীদার প্রবণতাসহ বিভিন্ন সামাজিক গুণ অর্জন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে এ ধরনের সামাজিকীকরণ প্রায় দেখাই যায় না।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন শিশুর 'নিজ' ও 'অপর' সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা হয় তার পরিজনদের কাছ থেকেই। দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচি, চাচাত ভাই ও বোন এবং নিকট আত্মীয় স্বজনের অনেক বিষয় শিশুর আচরণে রেখাপাত করে, যা তাকে পরবর্তীকালে আত্মপরিচয় গঠনে সাহায্য করে এবং নিজেকে সমাজের অংশ হিসেবে বুঝতে শেখায়।
যৌথ পরিবারের ইতিবাচক সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে শিশুদের মধ্যে উদারতার গুণ তৈরি না হওয়ার কারণ হতে পারে। যৌথ পরিবারে শিশুরা বহু সদস্যের সাথে মিলেমিশে বড় হয়, যেখানে তারা ভাগ করে নেওয়া, অন্যের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং বৃহত্তর গোষ্ঠীর স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে শেখে। কিন্তু যৌথ পরিবার কমে গিয়ে একক পরিবার বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। তারা নিজেদের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং অন্যদের কথা কম ভাবছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে উদারতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি বিকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের সামাজিকীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 3: পরিবারে শিশুর বেড়ে ওঠা › Topic: শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবারের সদস্য ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভূমিকা
Aligned to the NCTB national curriculum.