বেগম রোকেয়া সমাজের নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন।
নারী অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বৃহৎ অংশকে অধিকার বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এছাড়াও, নারী শুধু গৃহস্থালি কাজই করেন না, বরং বিভিন্ন শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা ও প্রতিরক্ষা সহ সর্বত্র দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। তাদের অধিকার সংরক্ষণ করলে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
রহিমা বেগম অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই কাজের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কম মজুরি পাওয়া তার অর্থনৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। এছাড়াও, প্রতিবাদ করার পর তাকে 'নারীর এত কথা বলা উচিত নয়' বলে কাজ ছেড়ে দিতে বলা, সমাজে নারীর প্রতি প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক মনোভাব এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারকে খর্ব করছে।
রহিমা বেগমের অধিকার প্রতিষ্ঠায় 'জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকার' অত্যন্ত সহায়ক। এই অধিকার অনুযায়ী, শুধু ভোট প্রদান বা নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগের বেলায়ই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা, চাকরি বা কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভের অধিকারী। রহিমা বেগমকে যেহেতু একই কাজের জন্য কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে, এটি এই অধিকারের লঙ্ঘন। এই অধিকার নিশ্চিত হলে কর্মস্থলে নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য করা যাবে না এবং তাকে তার প্রাপ্য মজুরি দিতে বাধ্য থাকবে মালিকপক্ষ। এছাড়াও, মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও নারীর সমান অধিকার রয়েছে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি, যাতে কর্মস্থলে নারীরা কোনো বৈষম্য বা হয়রানির শিকার না হন এবং তাদের মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.