জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।
নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। এটি মানবাধিকারের একটি অংশ, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের জন্য সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।
মিসেস রিনা সরকারি চাকরি লাভে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাকে একই কাজের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রতিবাদকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমানাধিকারের লঙ্ঘন। এই বৈষম্য তার অর্থনৈতিক অধিকারকে খর্ব করছে।
মিসেস রিনার মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু সুপারিশ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমত, শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি, যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ই তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। সরকার নারী নির্যাতন ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রবর্তন করেছে, যা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কর্মস্থলে নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। এছাড়াও, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ও মজুরির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা উচিত, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি বৈষম্য করা না হয়।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: নারী অধিকারের ধারণা এবং বাংলাদেশের সমাজে নারীর অবস্থান ও অধিকার পরিস্থিতি
Aligned to the NCTB national curriculum.