কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবার ও সমাজ গঠনের সূচনা হয়েছিল।
অধিকাংশ ফল পাকার পর বেশিদিন রাখা যেত না, পচন ধরত। কিন্তু শস্য অর্থাৎ ধান, গম, ডাল ইত্যাদি সংগ্রহের পর দীর্ঘদিন রাখা যায়। এর ফলে খাদ্যের সংকট অনেকটাই লাঘব হলো, তাই শস্যের গুরুত্ব বাড়ল।
উদ্দীপকে বর্ণিত গুহায় বসবাসকারী নারীরা ফল খেয়ে বীজ ফেলার পর সেখান থেকে চারা গজাতে দেখে কৃষির সূচনা করেন। এই উৎপাদন ব্যবস্থার কেন্দ্র হয়ে পড়েন নারী। কৃষাণি নারী একজন পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী খুঁজে নিয়ে সংসার শুরু করেন এবং তাঁদের ছেলেমেয়ে মিলে পরিবার গড়ে ওঠে। এভাবেই নারীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
কৃষির সূচনা না হলে মানব সমাজ ও পরিবার বর্তমান রূপ পেত না। কৃষিকাজ শুরুর আগে মানুষ শিকারি ও ফল সংগ্রাহক হিসেবে দলবদ্ধভাবে চলাচল করত, পরিবার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। কৃষির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কৃষাণি নারীরা পরিবার গঠন করেন এবং ক্রমশ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিয়ে ও পরিবার সম্পর্কে নিয়ম-কানুন তৈরি হয়। কৃষির অগ্রগতির ফলেই শ্রম বিভাজন, গ্রাম গঠন এবং পরবর্তীতে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। তাই কৃষির সূচনা না হলে মানব সমাজের বিবর্তন ও পরিবার গঠন ভিন্ন পথে যেত এবং বর্তমান রূপ পেত না।
Class 7 › কৃষিশিক্ষা › Chapter 1: কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি › Topic: কৃষি এবং সংস্কৃতির আন্তঃসম্পর্ক
Aligned to the NCTB national curriculum.